সোমবার | ০৬ জুলাই, ২০২০

করোনা উপসর্গ নিয়ে বিলাইছড়ি উপজেলা প্রকৌশলীর ঢাকায় মৃত্যু

প্রকাশঃ ০১ জুন, ২০২০ ০৯:৫৫:০৯ | আপডেটঃ ০৬ জুলাই, ২০২০ ০১:৫৭:১৯  |  ৮৭৭
সিএইচটি টুডে ডট কম, রাঙামাটি। রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলা এলজিইডর  প্রকৌশলী করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে ঢাকায় মস্তিস্কে রক্তক্ষরনের কারনে মারা গেছেন। আনোয়ারুল ইসলাম নামের ওই উপজেলা প্রকৌশলী আজ সোমবার সকাল ১০ টার দিকে ঢাকার বেসরকারি রিজেন্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ।

বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পারভেজ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ব্যক্তি জীবনে আনোয়ারুল ইসলামের স্ত্রী ও তিন কন্যা রয়েছে। দুই কন্যা অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ও এক কন্যা অনার্সের ছাত্রী। আনোয়ারুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর আলবনগর গ্রামে।

জানা গেছে, কয়েকমাস আগে উপজেলা প্রকৌশলী হিসাবে আনোয়ারুল ইসলাম যোগ দেন। গত ১৫/২০ দিন আগে তার কাশি ও জ্বর দেখা দেয়, এসময় তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধও খেয়েছেন, গত রোববার ওই প্রকৌশলী অসুস্থ্যবোধ করলে তাকে প্রথমে বিলাইছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়, পরে তাকে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করালে রাঙামাটিতে আইসিইউ না থাকায় চিকিৎসক চট্টগ্রাম রেফার করেন। চট্টগ্রামে কোন সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউ না থাকায় তাকে সকালে ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকায়ও কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরে বেসরকারি রিজেন্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সকাল ১০টার দিকে তিনি মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ জনিত কারনে তিনি মারা যান।  মৃত্যরে পর তার করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পারভেজ চৌধুরী জানান, উপজেলা প্রকৌশলী গত ৪ মাসে বিলাইছড়ি উপজেলার বাইরে যাননি, তিনি অসুস্থ্য হওয়ার পর আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে চেষ্টা করেছি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কিন্তু পারেনি। সরকারি বেসরকারি কোন হাসপাতালে করোনা আতংকে ভর্তি করা হয়নি।

রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা.শওকত আকবর জানান, প্রকৌশলী আনোয়ারুল ইসলাম একজন স্ট্রোকের রোগী ছিলেন। যখন রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়, তখন তার একপাশ অবশ ছিল। ধারনা করা হচ্ছে, তিনি স্ট্রোক করেছেন। তবে, করোনার কোন লক্ষন ছিল না। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে রেফার  করা হয়েছিল।

এদিকে উপজেলা  প্রকৌশলী আনোয়ারুল ইসলামের মৃত্যুর পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পারভেজ চৌধুরী আবেঘ ঘন এক ষ্টাটাস দেন,, এতে তিনি লিখেন

 “জনাব আনোয়ারুল ইসলাম, উপজেলা প্রকৌশলী, বিলাইছড়ি মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ জনিত কারনে আজ সকালে ইন্তেকাল করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আল্লাহ উনাকে জান্নাতবাসী করুন। অত্যন্ত বিনয়ী একজন স্বল্পভাসী মানুষ ছিলেন।

অনেকটা চিকিৎসার অভাবেই মারা গেলেন বলতে হয়। পুরো চট্টগ্রামে আইসিইউ সাপোর্ট সবাই মিলে চেষ্টা করার পরেও ব্যর্থ হই সকলে, অবশেষে মুমূর্ষু অবস্থায় সারারাত চট্টগ্রাম মেডিকেল হতে ভোর বেলায় ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

খুব কষ্ট লাগছে এই ভেবে যে আমরা আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে এখনো এতোটা পিছিয়ে যে একজন সরকারি কর্মকর্তা তার দাপ্তরিক সকল মাধ্যমে ও আমাদের সকলের প্রচেষ্টার পরেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা টুকু পেলেন না। একজন খুব সাধারণ জনগনের কথা চিন্তা করতে গেলে মাথা কাজ করে না।




তার স্ত্রী ( ভাবি) অসুস্থতার পরবর্তী সময় থেকে আমাকে খালি একটি কথাই বলছিলেন যে ভাই আপনার উপর ই ছেড়ে দিলাম আল্লাহ আর আপনি এখন উনাকে বাচাতে পারেন। আপনি আমার ভাই। আপনি আমাদের একটু সাহায্য করেন। আমাদের কেউ নেই আর তিনটি ছোট মেয়েকে নিয়ে আমি কি করবো। আল্লাহর দোহাই আমাদের এই বিপদ হিতে রক্ষা করুন। কিছুই করতে পারলাম না। আমরা কেউই কিছুই করতে পারিনি। কিছু দিন আগে ঢাকায় বাড়ি যেতে চেয়েছিলেন। করনা পরিস্থিতির কারনে উনাকে ঐ সুযোগ টাও দিতে পারিনি এই জন্য নিজেকে অনেক বড় অপরাধী লাগছে। লাশটাকেই পরিবার দেখতে হবে এতদিন পরে, জীবিত আনোয়ার কে তার পরিবার দেখতে পারলোনা একটি বার।”

রাঙামাটি |  আরও খবর
এইমাত্র পাওয়া
আর্কাইভ
সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত, ২০১৭-২০১৮।    Design & developed by: Ribeng IT Solutions