বৃহস্পতিবার | ১৮ অক্টোবর, ২০১৮
খাগড়াছড়ি জেলা শহরে কাছে

যৌথ অভিযানের মাঝেই দুই পক্ষের গোলাগুলি, জনমনে আতংক

প্রকাশঃ ২২ মে, ২০১৮ ০৬:২৫:২৪ | আপডেটঃ ১৭ অক্টোবর, ২০১৮ ০৩:০২:০৬  |  ২২২০
সিএইচটি টুডে ডট কম, খাগড়াছড়ি। যৌথ অভিযানের মধ্যেই খাগড়াছড়ি শহরের স্বনির্ভর এলাকায় মঙ্গলবার দুপুরে দুই সন্ত্রাসী দলের মধ্যে প্রকাশ্যে গুলী বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় জেলাশহরে জনমনে ব্যাপক আতংক সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে অল্প সময়ের মধ্যে যৌথ বাহিনী সদস্যরা ঘটনাস্থলের পৌঁছলেও সন্ত্রাসীদের উভয়পক্ষ সদল বলে পালিয়ে যায়।  

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নতুন ইউপিডিএফ এবং পুরনো ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা চেঙ্গী নদীর দুই পাড়ে সশস্ত্র অবস্থান নিয়ে ভারী অস্ত্র দিয়ে একে-অপরের দিকে গুলী ছুঁড়তে থাকে। ১৫ থেকে ২০ মিনিট স্থায়ী এই বন্দুকযুদ্ধ চলাকালে কাছের স্বনির্ভর বাজার, জেলা পরিষদ কার্যালয়সহ আশেপাশের মানুষ দিকবিদিকহীন পালাতে থাকে। মুর্হুর্তে বন্ধ হয়ে যায় স্বনির্ভর বাজরের দোকানপাট। কিছুটা সময় থমকে যায় খাগড়াঝড়ি-পানছড়ি সড়কে যান চলাচলও।
পুলিশ জানিয়েছে, নতুন ইউপিডিএফ’র সন্ত্রাসীরা চেঙ্গী নদীর পূর্ব পাড়ে রাবার ফ্যাক্টরি এলাকায় অবস্থান নিয়েছিলো। আর পুরনো ইউপিডিএফ’র সন্ত্রাসীরা নদীর পশ্চিম পাড়ে অবস্থান নেয়। উভয়ে মুখোমুখি হলে গুলী বিনিময় শুরু হয়।
ওই এলাকার বাসিন্দা একজন অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গোলাগুলির শব্দ শুনে মনে হয়েছে এগুলো সব ভারী অস্ত্রই। প্রথমেই এসএমজি’র ব্রাশফায়ারের শব্দ শোনা গেছে। তারপর এলাপাথাড়ি গুলীর শব্দ। শেষের গুলো ভারী রাইফেলের গুলীর মতো থেমে থেমে ছোঁড়া হয়েছে।
স্বনির্ভর বাজারের ব্যবসায়ী এবং আশেপাশের বাসিন্দারা জানান, এভাবে দিনে-দুপুরে যদি গোলাগুলী চলতে থাকে, তাহলে তো জান-মালের নিরাপত্তার কোনই মূল্য নেই। উল্টো সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যাবার পর নিজেদেরকে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা গেছে, যৌথ বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য ঘটনাস্থলের আশেপাশে অবস্থান নিয়ে আছে। তবে আতংকে স্বনির্ভর বাজারের সব দোকানপাট বন্ধ ছিল।
ইউপিডিএফ’র কেন্দ্রীয় প্রচার শাখার প্রধান নিরন চাকমা অভিযোগ করেন, সাংবাদিকদের সাথে পূর্ব নির্ধারিত প্রেস ব্রিফিংকে বানচাল করার জন্য প্রশাসনের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকা দুর্বৃত্তরা আতংক তৈরির জন্য এই ঘটনা ঘটিয়েছে। যৌথ বাহিনীর অভিযান চলাকালে কিভাবে দিনে-দুপুরে এমন ঘটনা ঘটতে পারে, তাও রহস্যজনক।

গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফ’র দপ্তর শাখা থেকে টেলিফোনে মিঠুন চাকমা জানান, তাঁদের নেতা-কর্মীরা বেলতলী পাড়ায় সাংগঠনিক কাজে গেলে পুরনো ইউপিডিএফ’র সন্ত্রাসীরা অতর্কিতে হামলা চালালে উভয় পক্ষের মধ্যে লড়াই শুরু হয়ে যায়।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি শাহাদাত হোসেন টিটু জানান, দুই দল সন্ত্রাসীদের মধ্যে গুলী বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আনুমানিক ৫০ রাউন্ডের মতো গুলী ফুটেছে।

খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার আলী আহাম্মদ খান জানান, যৌথ বাহিনীর অভিযান চলছে। শহরের বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। আতংকিত হবার কোন কারণ নেই।

এইমাত্র পাওয়া
আর্কাইভ
সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত, ২০১৭-২০১৮।    Design & developed by: Ribeng IT Solutions