রবিবার | ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৯

বাসন্তী চাকমা এমপির বিরুদ্ধে সংসদে রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়ে পাহাড় ত্যাগ করার দাবি

প্রকাশঃ ১৪ জুলাই, ২০১৯ ০৪:৫৪:৫৮ | আপডেটঃ ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০২:০০:২৬  |  ৭৪৭
সিএইচটি টুডে ডট কম কম ডেস্ক। সংরক্ষিত মহিলার আসনের সংসদ সদস্য বাসন্তী চাকমার সংসদে দেয়া সংবিধান ও রাষ্ট্রবিরোধী  বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়ে পার্বত্য এলাকা ত্যাগ করার দাবিসহ ৪ দফা দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও কর্মসূচি করেছেন পার্বত্য অধিকার ফোরাম কেন্দ্রীয় সংসদ।

আজ রোববার দুপুরে খাগড়াছড়ির চেঙ্গীস্কোয়ার হতে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রদান প্রদান সড়ক প্রদক্ষিন করে শাপলা চত্তরে এসে ঘন্টা ব্যাপি মানবন্ধন করে “বাসন্তী তুই রাজাকার এইমূহুর্তে পাহাড় ছাড়, সাম্প্রদায়িক বাসন্তীর পাহাড়ে ঠাই নাই এই স্লোগানের মধ্য দিয়ে মানবন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে পার্বত্য অধিকার ফোরাম কেন্দ্রীয় সংসদ ও সহেেযাগী অঙ্গ সংগঠন।

এসময় মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাসন্তী চাকমার উগ্র সাম্প্রদায়িক বক্তব্য প্রদান,  ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত করে কথা বলা, সংবিধান ও সংসদ সদস্যের শপথ পরিপন্থিভাবে বাংলাদেশের নাগরিকদের ‘বহিরাগত’,সেটেলার আখ্যা দেওয়া,পার্বত্য চট্টগ্রামের অখন্ডতা রক্ষায় নিয়োজিত দেশ প্রেমিক সেনাবাহিনীর নামে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালি মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের প্রতি অসম্মান জানানো ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কে প্রশ্নবিদ্ধ করা সহ উপজাতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের সুরে কথা বলে তিন পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের মাঝে উগ্র-সাম্প্রদায়িক ও জাতিগত বিভেদ উস্কে দিয়েছেন এই বাসন্তী চাকমা। তার নির্দেশে ই তার বিরুদ্ধে পরিচালিত আন্দোলন কর্মসূচি ঠেকাতে  তার সন্ত্রাসী ভাইয়েরা গত ১৮ ই মার্চের উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের উপর ব্রাশ ফায়ার করে ৮ জন কে নিহত ও ২৮ জন কে আহত করে। উগ্র সাম্প্রদায়িক এই নেত্রী পাহাড়ে আসার সাথে সাথে মহালছড়িতে তার শান্তিবাহিনী ভাইয়েরা দুটি  গাড়িতে আগুন দেয়। সে পাহাড়ে থাকলে তার উগ্র সাম্প্রদায়িক বক্তব্যের কারনে যে কোন সময় পাহাড়ে বড় ধরনের সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটতে পারে। তাই তাকে পাহাড় ছাড়তে হবে।

মানববন্ধনে বক্তব্যে রাখেন, পার্বত্য অধিকার ফোরামের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ সভাপতি আহমেদ রেদোয়ান,  দিঘীনালা উপজেলা জৈষ্ঠ্য সহ সভাপতি গোলাপ হোসেন, মাটিরাঙ্গা উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা শাখার সদস্য সচিব আনিসুজ্জামান ডালিম, কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক সাহাবুদ্দীন, কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক সাদ্দাম হোসেন,জেলা আহবায়ক এস এম হেলাল, খাগড়াছড়ি জেলা শাখার যুুগ্ন আহবায়ক মোক্তাদির হোসেন, কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক রবিউল হোসেন, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ খাগড়াছড়ি জেলা যুগ্ন সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল, দীঘিনালা উপজেলা শাখার সভাপতি আলামিন হোসেন, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ খাগড়াছড়ি জেলা শাখার প্রচার সম্পাদক সোহেল রানা, দীঘিনালা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন আহম্মেদ, মাটিরাঙা উপজেলা শাখার সদস্য সৌরভ হোসেন, সদর ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি সালাম , মনির ,মছা ও বাবুল অন্যান্য শাখার গুরুপ্তপূর্ন নেতাকর্মীগন।

মানববন্ধন থেকে চারদফা দাবি ও এক দফা কর্মসুচী ঘোষণা করা হয় 

বাসন্তী চাকমাকে ১৪ জুলাই (আজকের মধ্যে) প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে পাহাড় ত্যাগ করতে হবে, বাসন্তী চাকমার উগ্র সাম্প্রদায়িক, মিথ্যা বক্তব্যের জন্য আনুষ্ঠানিক ভাবে সংসদে দাড়িয়ে জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিতে হবে, অসাম্প্রদায়িক আওয়ামীলীগের সদস্য হয়েও উগ্র সাম্প্রদায়িক বক্তব্য প্রদান করায়  তাকে মহিলা আওয়ামীলীগ হতে  বহিস্কার করতে হবে এবং একজন অসাম্প্রদায়িক নারী কে সংরক্ষিত মহিলা আসনে সংসদ হিসেবে মনোয়ন দিতে হবে।

এসব দাবি মানা না হলে বাসন্তী চাকমা এমপিে কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে এবং যে কোন অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির জন্য বাসন্তী চাকমাকে দায়ী থাকতে হবে।

প্রসঙ্গত:  গত ২৬ শে ফ্রেরুয়ারী’১৯ ইং মহান জাতীয় সংসদের ১ম অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বাসন্তী চাকমা তার বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাস কারী ৫১% শতাংশ বাঙালি জনগোষ্ঠী ও পার্বত্য চট্টগ্রামের অখন্ডতা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত সেনাবাহিনীর নামে অপবাদ মূলক কথিত অসত্য,বানোয়াট বক্তব্য প্রদান করেছেন। কথিত ঐ ঘটনাটি কে মহান মুক্তিযুদ্ধের বর্বরতার সাথে তুলনা করে ধর্মকে অবমান করে তার প্রদানকৃত বক্তব্যের সম্পূর্ন অংশ ই ছিলো উগ্র সাম্প্রদায়িক ও একপেশে। আর এসব অভিযোগে বাঙালী সংগঠনগুলো বাসন্তী চাকমা এমপিকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।

খাগড়াছড়ি |  আরও খবর
এইমাত্র পাওয়া
আর্কাইভ
সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত, ২০১৭-২০১৮।    Design & developed by: Ribeng IT Solutions