সোমবার | ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
ঢাকায় গোলটেবিল বৈঠক

হতাশ হওয়ার কিছু নেই, চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া আবার গতি ফিরে পেয়েছে : পার্বত্যমন্ত্রী

প্রকাশঃ ২৮ জুন, ২০১৯ ০৪:১২:১৩ | আপডেটঃ ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০৭:১২:৪৯  |  ৩০৯২
সিএইচটি টুডে ডট কম ডেস্ক।  পার্বত্য চট্টগ্রামে উন্নয়ন, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের জন্য শান্তি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন, ভূমি কমিশন কার্যকর ও স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। সহিংসতা দূর করতে হলে সংবিধানের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন এবং স্থানীয় সব শ্রেণির জনগণ সঙ্গে নিয়ে আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন করতে হবে। সবাই উদার মানসিকতা ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে আসলে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তির সুবাতাস ফিরে আসবে। ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়ন : সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের গুরুত্ব’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সাবেক কূটনীতিক ও আইসিএলডিএস-এর চেয়ারম্যান মো. জমির। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইসিএলডিএস-এর নির্বাহী পরিচালক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশীদ। দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। পৃথকভাবে তিনটি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন ও সাবেক পররাষ্ট্র সচিব, রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিক সি এম শফি সামি।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এম পি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি  বাস্তবায়ন নিয়ে হতাশ হওয়ার কিছুই নেই। সমন্বয়ের কিছুটা ঘাটতি আছে। তবে চুক্তি বাস্তবায়নে আবার গতি ফিরেছে। সব ক্ষেত্রে নেতিবাচক ধারণা নিয়ে থাকলে সামনে অগ্রসর হওয়া যাবে না। আমরা একত্রে থাকলে সামনে এগিয়ে যাবই। ’৯৬ সালে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সমস্যা সমাধানের জন্য এগিয়ে আসেন।

মন্ত্রী সহিংসতা বন্ধের জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অধিকাংশ পাহাড়ি মানুষ শান্তি চায়। এজন্য পাহাড়ি-বাঙালি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে। পার্বত্য এলাকায় গত অর্থবছরে ৮ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মেজবাহুল ইসলাম বলেন, পার্বত্য এলাকার ১০ হাজার পরিবারকে সৌর বিদ্যুতের আওতায় আনা হয়েছে। আরো ১০ হাজার পরিবারকে বিদ্যুতের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে- একনেকে পাস হয়েছে। পার্বত্য শান্তি চুক্তির ৪৮টি ধারার বাস্তবায়ন হয়েছে। ১৫টি ধারার আংশিক বাস্তবায়ন হয়েছে। বর্তমানে ৯টি ধারা বাস্তবায়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও কূটনীতিক সি এম শফি সামি বলেন, পার্বত্য শান্তি চুক্তি সম্প্রীতি ও সহবস্থানের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। এখন স্থায়ী শান্তির জন্য সরকারকে রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিয়ে বাস্তবায়ন করতে হবে।

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব, রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিক শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, শান্তি চুক্তির ভিত্তিতেই পার্বত্য এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে এবং উন্নয়ন কর্মকান্ড চালাতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মেজবাহ কামাল বলেন, শান্তি চুক্তির ২২ বছর পার হয়েছে। আমরা বাঙালি ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের চোখ দিয়ে আমরা পার্বত্য সমস্যাটি দেখছি। যতদিন বাঙালিকরণ ও ইসলামিকরণের চেষ্টা করব ততদিন পার্বত্য এলাকায় সম্প্রীতি ও সহাবস্থান ফিরবে না।

পার্বত্য উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা বলেন, পার্বত্য এলাকায় শিক্ষা, যোগাযোগ, কৃষিসহ সব ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে পার্বত্য তিন জেলার ২৬টি উপজেলায় সরকারি-বেসরকারি ৪৪টি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এক সময় ৫০ কিলোমিটার সড়ক যোগাযোগ ছিল। এখন তা ১ হাজার কিলোমিটার হয়েছে। ভবিষ্যতে তা ২ হাজার কিলোমিটার ছাড়িয়ে যাবে।

অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন তার প্রবন্ধে বলেন, টেকসই উন্নয়ন ও বৈরিতা দূর করতে না পারলে সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব হবে না।

ঢাবি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আমেনা মহসিন বলেন, পাহাড়িরা তাদের অধিকারগুলো পাচ্ছে কি না তা দেখা জরুরি। সামাজিক বিচার ও উন্নয়নের বিষয়টিও দেখতে হবে। ভূমি কমিশন কেন কাজ করতে পারছে না তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। বিশেষ করে নারীর ওপর সহিংসতা নিয়েও চিন্তা করতে হবে।

ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, পার্বত্য এলাকায় শান্তি স্থাপন ও শান্তি চুক্তির বাস্তবায়ন করতে হলে আমাদের হৃদয়কে প্রসারিত করতে হবে। শান্তি চুক্তির মধ্য দিয়েই বিরাজমান সব সমস্যা সমাধানে এগিয়ে যাওয়া যাবে।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, রাঙামাটি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সহিদুজ্জামান মহসিন রোমান, খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র রফিকুল আলম, বাঘাইছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান সুদর্শন চাকমা, লক্ষীছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান বাবুল চৌধুরী। বক্তারা তাদের বক্তৃতায় স্থানীয় বাস্তবতা তুলে ধরেন এবং চুক্তি বাস্তবায়নের অন্তরায়গুলো তুলে ধরেন।

কৃতজ্ঞতা ভোরের কাগজ

জাতীয় |  আরও খবর
এইমাত্র পাওয়া
আর্কাইভ
সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত, ২০১৭-২০১৮।    Design & developed by: Ribeng IT Solutions