সকলের সহযোগীতায় কেপিএম আবার ঘুড়ে দাড়াবে : উষাতন তালুকদার এমপি

প্রকাশঃ ০২ এপ্রিল, ২০১৮ ০৮:২২:৩১ | আপডেটঃ ১৪ অক্টোবর, ২০১৮ ০১:২৯:০০

সিএইচটি টুডে ডট কম, কাপ্তাই (রাঙামাটি)। রাঙামাটির নির্বাচিত  সংসদ সদস্য উষাতন তালুকদার বলেছেন, কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী পেপার মিলস লিমিটেড (কেপিএম) সবাই সহযোগিতা করলেও আবারো ঘুরে দাঁড়াবে। এক্ষেত্রে কর্মকর্তা কর্মচারী সকলের আন্তরিকতা ও সততা প্রয়োজন, সরকার লোকসান কাটাতে যে অর্থ সহায়তা দিচ্ছে  সেটির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

১লক্ষ ২৬ হাজার একর জমি নিয়ে ৭০ বছর আগে স্থাপিত হয়েছিল কেপিএম। গত ৭০ বছরে এর অবস্থা খুবই করুণ হয়ে পড়েছে। জরাজির্ণ প্রতিষ্ঠানটি সকলের সমন্নয়ে আবারও এগিয়ে চলছে সফলতার দ্বার প্রান্তে। তিনি বলেন, এটি একটি বৃহত্তর প্রতিষ্ঠান। এই মিলস নিয়ে অনেক মহলের রয়েছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা। তবে দেনার ভারে এই মিলসটি ভারক্রান্ত হয়ে গেলেও বর্তমান ব্যবস্থাপনা ও সিবিএ সহ শ্রমিক কর্মচারির নিরলস প্ররিশ্রম কেপিএম ঘুড়ে দাঁড়ানোর ছবি চোখের সামনে ভাসছে। কেপিএম তিন পার্বত্য অঞ্চলের অর্থনৈতিক  পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে বলেও জানান তিনি।

সোমবার সকালে কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী পেপার মিলস পরিদর্শনে এসে বিসিআইসি ও কেপিএমের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, সিবিএ, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধিদের সাথে মিলের বর্তমান সমস্যা হতে উত্তোরণের বিষয়ে এক বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা জানান বলেন।
তিনি আরও বলেন, কেপিএম এর সাথে ব্যবসায়ী, শ্রমজীবি সহ অনেক মহল জড়িত। তদের ভরন-পোষণ হচ্ছে এই মিল দিয়ে, মিলটি সরকারকে ১হাজার কোটি টাকা ট্যাক্স দিয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে সরকারের উর্ধ্বতনরা এই মিলটি নিয়ে আরো বেশী চিন্তা ভাবনা না করলে কেপিএমের কর্মকান্ড ঝিমিয়ে পড়বে।
সাংসদ উষাতন তালুকদার আরো বলেছেন, কেপিএমের পাশাপাশি ইউরোপিয়ান কোন কোম্পানী অথবা পার্টনারকে মিলের সাথে যুক্ত করে যদি রেয়ন মিলসের অবকাঠামো ভেঙ্গে নতুন করে আরেকটি পেপার মিলস স্থাপন করা হয় তাহলে বাংলাদেশ কাগজ আমদানি খরচ ব্যয় কমিয়ে নিজের দেশের কাগজ ব্যবহার করতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি কেপিএম মিলসও সচল ভাবে কাজ করবে। এক্ষেত্রে এলাকায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।

এর আগে তিনি কেপিএমের বিভিন্ন প্লান্ট ঘুরে দেখেন। সেখানে কিভাবে কাগজ উৎপাদন করা হয়, যন্ত্রপাতির জরাজির্ণ অবস্থা, কেআরসি, কেপিএম স্কুল সহ কেপিএমের বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন শেষে কেপিএমের প্রশাসনিক কার্যালয়ের সভাকক্ষে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এম.আর জহিরের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, বিসিআইসির উর্ধ্বতন মহা ব্যবস্থাপক আসাদুর রহমান টিপু। বক্তব্য রাখেন, কাপ্তাই উপজেলা চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন, কেপিএমের এমডি ডা. এমএমএ কাদের, প্রাক্তন জিএম (প্রশাসন) জাহাঙ্গির আলম খাঁন, কেপিএম এর অতিরিক্ত প্রধান হিসাব রক্ষক তসলিম পাটোয়ারী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী স্বপন কুমার সরকার, অতিরিক্ত প্রধান রসায়ন বিদ গোলাম সরয়ার সহ আরও অনেকে। পরে সিবিএ, ব্যবসায়ী সহ কয়েকটি সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনায় করেন তিনি।

সাংসদ উষাতন তালুকদারের একান্ত সহকারি  এমআর হোসাইন জহির জানান, কেপিএম হতে যারা অবসরে গেছে তারা এখনও তাদের বকেয়া পাওনাদি পাচ্ছে না, যারা চাকরি করছে তারা ঠিকভাবে তাদের বেতন পাচ্ছে না, যারা বিভিন্ন স্থানে বদলি হয়েছে তাদের অবস্থা খুবই খারাপ। সকলে হাহাকার করছে বকেয়া পাওনাদির জন্য। তাদের অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে মাননীয় সাংসদের পক্ষে আমরা যেখানে যেখানে তদবির করার করছি।
এদিকে বিসিআইসির উর্ধ্বতন মহা ব্যবস্থাপক আসাদুর রহমান টিপু বলেন, কেপিএমের অবস্থা খুব নাজুক হলেও এই মিলসটি খুব দ্রুত সংকট কাটিয়ে উঠবে। পার্বত্য অঞ্চলের অর্থনৈতিক অবদানে ভুমিকা রাখবে আবারও। তাই তিনি কেপিএম এর কর্মকর্তা কর্মচারি সকলকে এক যোগে কাজ করতে বলেন।


সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত, ২০১৭-২০১৮।    Design & developed by: Ribeng IT Solutions