কাউখালীর ২ স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

প্রকাশঃ ১৭ অগাস্ট, ২০২০ ০৪:৪২:৪৭ | আপডেটঃ ০৪ ডিসেম্বর, ২০২০ ০১:৩০:২৯
সিএইচটি টুডে ডট কম, রাঙামাটি। রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার দুই স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ দু’কর্মকর্তা হলেন- উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুইমি রোয়াজা এবং তার ভাই প্রধান অফিস সহকারী শ্যামল রোয়াজা ওরফে বড় বাবু।

প্রাপ্ত অভিযোগে জানা যায়, ওই দু’কর্মকর্তা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস ব্যবস্থাপনায় নানা খাতে পাওয়া অর্থ ভুয়া বিলে আত্মসাৎ এবং ডেঙ্গু ও করোনা প্রতিরোধের বরাদ্দ নয়ছয় করাসহ ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িত। সম্পর্কে তারা ভাইবোন। এ ছাড়া প্রধান অফিস সহকারী শ্যামল রোয়াজার স্ত্রীও একই কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য সহকারী পদে কর্মরত আছেন। কিন্তু তিনি নিয়মিত অফিসেও যান না। অথচ বেতন পান নিয়মিত।

অভিযোগ মতে, কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুইমি রোয়াজা ও প্রধান অফিস সহকারী শ্যামল রোয়াজা (বড় বাবু) মিলে ভুয়া বিল বানিয়ে বিভিন্ন ধরনের সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে আসছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন জিনিষপত্র কেনার নামে ভুয়া বিল ভাউচারে টাকা উত্তোলণ করা হলেও ওইসব জিনিষপত্রের স্টোরে জমা নেই। গোটা বছরজুড়ে জেনারেটর না চালিয়েও জ্বালানি তেলের বিলের অর্থ উত্তোলণ করা হয়। গত বছর ডেঙ্গু চিকিৎসায় পাওয়া লক্ষাধিক টাকাসহ চলতি বছর করোনা প্রতিরোধ ও পরিস্থিতি মোকাবেলায় পাওয়া বরাদ্দের অর্থ নয়ছয় করা হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ ছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা হতে পাওয়া সহায়তার অর্থও আত্মসাৎ করা হয়েছে। মোটরযান মেরামত বাবদ যে অর্থ ছিল, সেগুলো কাজ না করেই ভুয়া বিল ভাউচারে উত্তোলণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ইনডোর ওয়ার্ডের খাদ্য সরবরাহকারী ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দৈনিক ১০ জন রোগী ভর্তি দেখানো হয়। অথচ রোগী ভর্তি থাকেন ২-৩ জন। অফিসের জিনিষপত্র উচ্চমূল্যে ক্রয় দেখানো হলেও সরবরাহ করা হয় নিম্নমানের। ওইসব জিনিষপত্র সরবরাহ করে থাকেন প্রধান অফিস সহকারী বড় বাবু নিজেই। তিনি কর্মচারীদের থেকে মূল বেতন বিল ছাড়া অন্য সব বিলে ৩০ ভাগ অর্থ কাটেন। এ ছাড়া কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন তিনি। অফিসের কর্মচারী কেউ সামান্য অপরাধ করে থাকলে দাফতরিক ব্যবস্থা না নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও প্রধান অফিস সহকারী সম্পর্কে ভাইবোন হওয়ায় সাধারণ কর্মচারীরা তাদের কাছে বরাবরই জিম্মি। এ ছাড়া প্রধান অফিস সহকারী বড় বাবুর সহধর্মিনী উসাংপ্রু রোয়াজা চাকরি করেন একই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য সহকারী পদে। তিনি চাকরি করলেও নিয়মিত অফিসে যান না। অথচ বেতন পান নিয়মিত। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অনেকে। সংবাদপত্রে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা সিভিল সার্জন বরাবরে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক নিম্ন স্তরের কর্মচারী। অভিযোগের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশনের রাঙামাটি জেলা অফিস, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা প্রশাসক বরাবরে।    

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুইমি রোয়াজা বলেন, এসব কথাবার্তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সেখানে কোনো রকম অনিয়ম-দুর্নীতি হয় না। প্রধান অফিস সহকারীর স্ত্রী দীর্ঘদিন অসুস্থ। তাই তিনি ছুটিতে থাকায় নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে পারেননি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান অফিস সহকারী শ্যামল রোয়াজা ওরফে বড় বাবু বলেন, তিনি অফিসের নিয়ম অনুযায়ী যাবতীয় বিল ভাউচার করেন- যা সম্পূর্ণ সরকারি নিয়মাফিক। কাজেই এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।

সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত, ২০১৭-২০১৮।    Design & developed by: Ribeng IT Solutions