রাঙামাটিতে নিজ বাড়ীতে ফিরেছেন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের নেত্রী মন্টি ও দয়া সোনা চাকমা (ভিডিওসহ)

প্রকাশঃ ২১ এপ্রিল, ২০১৮ ০১:৫৭:৫২ | আপডেটঃ ২১ জুলাই, ২০১৮ ০৮:০১:৫৮
সিএইচটি টুডে ডট কম, রাঙামাটি। অপহরণকারীরা শারীরিকভাবে নির্যাতন না করলেও ১ মাস ১দিন পর রাঙামাটি থেকে অপহৃত ইউপিডিএফ সমর্থিত হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক মন্টি চাকমা ও জেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক দয়াসোনা চাকমাকে বৃহস্পতিার ছেড়ে দিয়েছে। শুক্রবার দুপুরের আগে তারা নিজ নিজ বাড়ীতে ফিরেছেন। এসময় সহকর্মীরা তাদের পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েছে। আজ দুপুরে দয়া সোনা চাকমা কাউখালী উপজেলার পানছড়ি গ্রামে ও মন্টি চাকমা নানিয়াচরের বুড়িরঘাট এলাকায় ফিরে যায়। মন্টি চাকমা কথা বলতে না চাইলেও দয়া সোনা চাকমা জানিয়েছেন তাদের দুই সংস্কারপন্থী দল ইউপিডিএফ ও জেএসএস  অপহরন করেছে। রাঙামাটি ও  খাগড়াছড়িতে ৫টি স্থান পরিবর্তন করে পায়ে হেটে বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখেছে। আটকের সময় কখনো অন্ধকার ঘরে আর কত সময় নির্জন কুড়ে ঘরে  ও বনে রেখেছে আবার রাতে অন্ধকারে দুর্গম পথ পায়ে হাটছে হয়েছে।

দয়াসোনা চাকমা অপহরনের দুঃসহ দিনগুলোর কথা উল্লেখ করে আরো বলেন, অপহরনকারীরা গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফের। যদিও আমরা আসামী হলেও সহযোদ্ধার মত অপহরণকারীরা তাদের সাথে খারাপ আচরণ করেননি এবং ঠিকমত রেখেছে। তবে রাতে অন্ধকারে দুর্গম পথ ঘন্টার পর ঘন্টা হাটতে হয়েছে তার জন্য সবচেয়ে বেশী কষ্ট লেগেছে।

দয়াসোনা চাকমা অপহরনের দুঃসহ দিনগুলোর কথা উল্লেখ করে আরো বলেন, অপহরনকারীরা গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফের। যদিও আমরা আসামী হলেও সহযোদ্ধার মত অপহরণকারীরা তাদের সাথে খারাপ আচরণ করেননি এবং ঠিকমত রেখেছে। তবে রাতে অন্ধকারে দুর্গম পথ ঘন্টার পর ঘন্টা হাটতে হয়েছে তার জন্য সবচেয়ে বেশী কষ্ট লেগেছে।

তিনি আরো জানান, গত ১৮ মার্চ অপহরনের দিন নানিয়ারচর উপজেলার হাদামোলা ঘাট এলাকায় রাখা হয়। সেখান থেকে ইঞ্জিন বোটে করে গত ২০ মার্চ  অপহরনকারীরা দুজনকে খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে নেয়ার পর অপহরনকারী গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফ ও এমএন লারমা গ্রুপের জনসংহতি সমিতির(সংস্কার পন্থী) লোকজনদের হাতে তুলে দেয়। পরে সেখান থেকে দুদিন দুই রাত পায়ে হেটে নিয়ে গিয়ে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার মেরুং এলাকায় ও বাজে ছড়া একটি কুড়ে ঘরে রাখা হয়।  সেখানে অপহরনকারীরা জোর করে স্বাক্ষর ও ভিডিও ধারন করে রাখে যে তারা গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফ দ্বারা অপহৃত হননি। প্রসিত বিকাশ নেতৃত্বে ইউপিডিএফের দ্বারা অপহৃত হয়েছে।
তিনি আরো অপহরণকারীদের মুক্তি পাওয়ার আগে দীঘিনালা উপজেলার বড়াদমে তাদেরকে তিন দিন আটকে রাখা হয়। এরপর গত বৃহস্পতিবার তাদের খাগড়াছড়িতে নিয়ে আসার পর তেতুলতলা এপিবিএন স্কুল গেইট এলাকা থেকে তাদের মুক্তি দেয়া হয়।




কোন ধরনের মুক্তিপন দেয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে দয়া সোনা চাকমা বলেন, আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছি দশ লাখ টাকা মুক্তিপণ চেয়েছে কিন্তু মুক্তিপণ ছাড়াই আমাদের ছেড়ে দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমি অন্তত এতটুকু বুঝেছি রাজনীতি করতে হলে আমাদের জেল জুলুম এসবকে মোকাবেলা করেই করতে হবে, আমাদের হাটতে হবে, জাতির অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করছি।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে খাগড়াছড়ির  তেতুলতলার এপিবিএন স্কুল গেইট এলাকা থেকে ইউপিডিফের সমর্থিত সংগঠন হিল ইউমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক মন্টি চাকমা ও রাঙামাটি জেলা শাখার সাধারন দয়াসোনা চাকমাকে তাদের আত্বীয়-স্বজন ও স্থানীয় জন প্রতিনিধির কাছে মুক্তি  দেয় অপহরনকারীর। গত ১৮ মার্চ রাঙামাটির সদর উপজেলার কুতুকছড়ি আবাসিক এলাকা থেকে এক দল দুর্বৃত্ত  দুই নেত্রীকে অস্ত্রের মূখে অপহরণ করে। এসময়  দুর্বৃত্তদের গুলিতে ধর্ম সিং চাকমা আহত হন। এ অপহরণ ঘটনায় নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমা, গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফের প্রধান তপন চাকমা বর্মাসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে দয়াসোনা চাকমার বাবা কতোয়ালী থানায় একটি অপহরনের মামলা দায়ের করেন।

এদিকে অপহরনকারীদের কাছে মুক্তির পাওয়ার পর গতকাল শুক্রবার সকালের দিকে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক মন্টি চাকমা নানিয়ারচর উপজেলার মরাচেঙে এবং একই সংগঠনের জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক দয়াসোনা চাকমা কাউখালী উপজেলার দুর্গম শুকনোছড়ি গ্রামের বাসায় ফিরেছেন। তারা দু জনেই সুস্থ্য শরীরে রয়েছেন।

এদিকে পাহাড়ে অপহরন খুন বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় কাউখালি উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জগদীশ চাকমা বলেন, ‘বৃহস্পতিবার তাদের ছেড়ে দিয়েছে, আমিও শুনেছি। এখন তার বাবা-মার কাছে সেটিও শুনলাম। আমি ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বাদের মাধ্যমে খোঁজ খবর রাখছি।’ অপহরণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অপহরণ কারা করে, কীভাবে করে, কীভাবে করতেছে, এই বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না।’

হিল উইমেন্স ফেডারেশনের রাঙামাটি জেলা কমিটির সভাপতি রুপসী চাকমা বলেছেন, আমরা আমাদের দুই সহযোদ্ধাকে ফিরে পেয়েছি এতে খুশি, দমন পীড়ন করে আন্দোলন দমানো যায় না। আমাদের আন্দোলন আরো বেগবান হবে।

সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত, ২০১৭-২০১৮।    Design & developed by: Ribeng IT Solutions