রাঙামাটি জেলা পরিষদের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

প্রকাশঃ ১৯ এপ্রিল, ২০১৮ ০৮:১৮:৩৯ | আপডেটঃ ১১ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০১:৪৮:৩৯
সিএইচটি টুডে ডট কম, রাঙামাটি। রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ এর মাসিক সভা বৃহস্পতিবার (১৯এপ্রিল) সকালে অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সভাকক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা। পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ছাদেক আহমদ এর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য এবং হস্তান্তরিত বিভাগের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা বলেছেন, এ জেলার সার্বিক উন্নয়নে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। সরকারি সেবা জনগণের দৌঁড়গোড়ায় পৌঁছে দিতে যাতে কোন ধরনের ঘাটতি না হয় সেদিকে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছেন। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও যোগাযোগ’সহ বিভিন্ন স্তরে উন্নয়ন হয়েছে। তিনি বলেন, দেশ এখন নিম্নমধ্যম আয়ের থেকে মধ্যম আয়ের দেশে পদার্পন করেছে। সরকারের এ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। তিনি বলেন, সরকার আমাদের নিয়োগ দিয়েছেন জনগণের কল্যাণের স্বার্থে। তাই পরিষদের হস্তান্তরিত বিভাগের সকল কর্মকর্তাদের সততার সাথে জনকল্যাণে স্ব স্ব দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন তিনি। জনগণের উন্নয়নের স্বার্থে পরিষদের সকল কার্যক্রমে সবসময় সকলের সহযোগিতা কামনা করেন চেয়ারম্যান।

সভায় সিভিল সার্জন ডাঃ শহীদ তালুকদার বলেন, আগামী ২৩ হতে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত জাতীয় পুষ্টি দিবস পালন করা হবে। এ উপলক্ষে র‌্যালি, মায়েদের রান্না প্রতিযোগিতা এবং শেষ দিন আলোচনাসভা ও পুরস্কার বিতরণ করা হবে।
তিনি বলেন, জেনারেল হাসপাতাল ও বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জায়গা দখলের বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের অবগত করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মেহেদী হাসান জানান, বর্তমানে জেলার ১০টি উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরিবার পরিকল্পনা ভবন মেরামত কাজ চলছে। আগামী জুনের মধ্যে সকল উপজেলায় সংস্কার ও মেরামতের কাজ সম্পন্ন করা হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক পবন কুমার চাকমা জানান, বোরো মৌসুমের ফসল কর্তনের কাজ প্রায় শেষ এবং টার্গেট অনুযায়ী অগ্রগতি হয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনছুর আলী চৌধুরী বলেন, শূন্যপদ পূরণের লক্ষ্যে শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া চেলাছড়া ও আটারকছড়া আবাসিক বিদ্যালয় পুনরায় চালু করার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া গত জুনে ভূমি ধ্বসে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয় ভবনসমূহ মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে।
মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা উত্তম খীসা বলেন, কাউখালী পোয়াপাড়া ও বিলাইছড়ি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়গুলো সরকারীকরণ করা হবে। এছাড়া নানিয়ারচর, বাঘাইছড়ি ও বরকল মডেল উচ্চ বিদ্যালয়গুলো সরকারী করণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।  

বিসিক-কুটির শিল্প উন্নয়ন কর্মসূচীর সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সান্তপন বড়–য়া জানান, কুটিরশিল্প উন্নয়ন কর্মসূচীর মধ্যে বস্ত্র বুনন, পোশাক সেলাই, বাঁশ বেতের পণ্য তৈরী, বাটিক বুটিক, কম্পিউটার, প্লাষ্টিক ব্যাগ তৈরী’সহ বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ চলছে।  

হর্টিকালচার সেন্টার বালুখালী, বনরুপা, লংগদু, নানিয়ারচর, আসামবস্তী ও কাপ্তাইয়ের উদ্দ্যান তত্ববিদরা জানান, বর্তমানে নার্সারিতে টার্গেট অনুযায়ী চারাকলম উৎপাদন ও বিক্রয় কার্যক্রম চলছে।

সভায় হস্তান্তরিত বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ তাদের বিভাগের স্ব স্ব কার্যক্রম উপস্থাপন করেন।

সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত, ২০১৭-২০১৮।    Design & developed by: Ribeng IT Solutions