বুধবার | ১৬ জুন, ২০২১
শহরের প্রতিটি ডাব বিক্রি হচ্ছে নিম্ন ৫০, সবোর্চ্চ ১০০টাকায়

রাঙামাটিতে চাহিদানুযায়ী যোগান না থাকায় বেড়েছে ডাবের দাম !

প্রকাশঃ ০৮ মে, ২০২১ ০৩:০৯:০৮ | আপডেটঃ ১৬ জুন, ২০২১ ১২:৩৬:২৬  |  ২৬৪
শাহ আলম, রাঙামাটি।  রাঙামাটি জেলা-উপজেলা ও তার আশেপাশের অঞ্চল দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তাপদাহ। তাই এই ভ্যাপসা গরমে বেড়েছে ডাবসহ অন্যান্য ফলমূলের দাম। একদিকে বৈশাখ মাসের শেষের দিকে তীব্র দাবদাহ অন্যদিকে পবিত্র রমজান মাস। তাই বাজারে বিভিন্ন রকমের মৌসুমী ফলের মজুদ থাকলেও এই দুই কারণে বেড়েছে ডাব ও অন্যান্য ফলমূলের দাম। বর্তমানে ডাবের দাম সাধারণ মানুষদের নাগালের বাইরে। প্রতি পিচ ডাবের দাম ৫০-৯০টাকা। হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে ডাবের দাম। তবে দাম বাড়লেও কদর কমেনি ডাবের। কর্মক্লান্ত শরীরে সতেজতা ফিরিয়ে আনতে উপকারী সুস্বাদু পানীয় হিসেবে বেশি দামেই ডাব কিনছেন পথচারী, ক্রেতারা।

প্রতিদিনই রাঙামাটির বনরুপা, রিজার্ভ বাজার, তবলছড়ি, কলেজ গেইট, ভেদভেদীসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় দুপুর-বিকেলের পর থেকেই এসব ডাবের দোকানে ডাবের একটু স্বস্তির পানি কিনতে ভিড় দেখা যায় ক্রেতাদের।

এছাড়াও মৌসুমী দোকানদারদের ভ্যানগাড়ি করে বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে কিংবা পাড়া মহল্লায় ডাবসহ অন্যান্য ফল বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে। তবে রমজান মাস হওয়ায় ইফতারের খাবারের তালিকায় শরীরকে একটু সতেজ করার জন্য শরবতের পাশাপাশি গুরুত্ব পাচ্ছে ডাবের পানি। বর্তমানে বাজারে ডাবের সর্বনিম্ম দাম হচ্ছে ৫০টাকা। আর সর্বোচ্চ দাম হচ্ছে ৯০-১০০টাকা। রাঙামাটি শহরের ডাব বর্তমানে জেলার আশেপাশের অঞ্চলেও গাড়ী করে নিয়ে যাচ্ছেন জেলার বাহিরের পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

রাঙামাটি শহরের সবচেয়ে বড় পাইকারি ও খুচরা ভাসমান বাজার সমতাঘাটে আজ শনিবার (০৮মে ২১) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন থেকে পাহাড়িরা ইঞ্জিন চালিত বোটে করে ডাব নিয়ে এসেছেন বিক্রির উদ্দেশ্যে। প্রতি পিচ ডাব পাইকারি হারে ৩০-৪০টাকা পর্যন্ত কিনছেন বিভিন্ন জেলা-উপজেলা ও শহরের পাইকারি ব্যবসায়ীরা। তবে চাহিদার তুলনায় ডাব বাজারে আসছে কম। তাই ডাবের বাজারে দাম অনেকটা বাড়তি।

রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন ক্রেতারা জানান, সারাদিন রোজা রেখে ডাবের পানি দিয়ে ইফতার করতে ভালো লাগে। তাই ডাব কিনতে এসেছি। কিন্তু যে সব ডাব কিছুদিন আগেও ৩০টাকা কিনেছি সেই ডাব এখন কিনতে হচ্ছে ৭০টাকায়। দাম যদিও দ্বিগুণ নেওয়া হচ্ছে তবুও ইফতারের সময় শরবতের পাশাপাশি ডাবের পানি শরীরের জন্য অনেক উপকারী বলেই কিনছি। নিম্ন কিংবা মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষদের পক্ষে এতো দাম দিয়ে ডাব কিনে খাওয়া কষ্টের ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে।

বিক্রেতারা জানান, শহরে বিক্রিত ডাবগুলো রাঙামাটির বিভিন্ন উপজেলা থেকে পাইকারি ভাসমান বাজার সমতাঘাটে আসে। বাজারে ডাবের দাম অনেক বেশি। প্রতি পিচ ডাব পাইকারি হারে ৫০-৬০টাকা পর্যন্ত দামে কিনতে হচ্ছে। এছাড়াও পরিবহন খরচ রয়েছে। চাহিদার তুলনায় ডাব কম বাজারে। তাই বেশি দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তাছাড়া এই সময় ডাবের সরবরাহ একটু কম থাকায় দামও একটু বেশি হয়। এছাড়া অতিরিক্ত গরমের কারণে ডাবের চাহিদা বেড়ে যাওয়াই ডাবের মূল্যও বেড়েছে। যদি বাজারে ডাবের সরবরাহ বেশি থাকতো তাহলে দামও অনেক কম হতো। তবে বৃষ্টি হলে ও গরম কমে গেলে ডাবের দাম কমে যাবে বলে তিনি মনে করেন।

তবে শহরের সচেতন নাগরিকরা জানান, পবিত্র রমজান মাস ও তীব্র গরমে এই সময়ে ডাবের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা অবৈধ ভাবে পণ্য মজুদ রেখে বাদ বাড়িয়ে দেয়। এই সমস্যা থেকে বের হওয়ার জন্য প্রশাসনকে নিয়মিত বাজার মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।

গত কয়েকদিন ধরেই রাঙামাটিসহ জেলার আশেপাশের এলাকাগুলোতে তীব্র গরম পড়েছে। তবে বর্তমানে একটু গরম কম রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, আজ (০৮ মে২১) দুপুরে রাঙামাটি শহরে তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডি.সে.। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে গরমের তাপমাত্রা কমে আসতে পারে।




রাঙামাটি |  আরও খবর
এইমাত্র পাওয়া
আর্কাইভ
সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত, ২০১৭-২০১৮।    Design & developed by: Ribeng IT Solutions