বুধবার | ১৬ জুন, ২০২১
রাঙামাটি শহরের

আনন্দ বিহারের দুর্লভ প্রজাতির ভূদং বাঁশ বরিক পাউডার দিয়ে ধ্বংসের অভিযোগ

প্রকাশঃ ০৭ মে, ২০২১ ০৯:৪৩:৪০ | আপডেটঃ ১৬ জুন, ২০২১ ১২:১৭:৫৭  |  ১৭০৮
সিএইচটি টুডে ডট কম, রাঙামাটি। রাঙামাটি শহরের বৌদ্ধদের অন্যতম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আনন্দ বিহারে সৌন্দর্য্য বর্ধনের জন্য লাগানো দুর্লভ প্রজাতির এক শততের অধিক ভূদং বাঁশে বরিক পাউডার দিয়ে ধ্বংসের অভিযোগ করা হয়েছে। ফলে বর্তমানে  বাঁশগুলো মরে যাচ্ছে।

আনন্দ বিহারের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ প্রজ্ঞানন্দ মহাস্থবির জানান, বাংলাদেশের বৌদ্ধ সমাজের কিংবদন্তীতূল্য প্রয়াত যবনাতিয্য মহাথেরো বিহারের সৌন্দয্য বর্ধনের জন্য ১৯৭৮ সালের দিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম তথা দেশের দুর্লভ প্রজাতির ভূদং বাঁশ রোপণ করেন। বিহারের পাশে বর্তমানে এক শতের উপরে ভূদং বাঁশ রয়েছে। যা বিহারের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধিসহ বিহারে আগত পূর্নার্থীরা এই সৌন্দর্য্য অবলোকন করে থাকেন। তিনি অভিযোগ করেন এই ভূদং বাঁশগুলোকে কে বা কারা নির্মূল করার জন্য ঘৃন্য অপতৎপরতা লিপ্ত রয়েছেন। এ বাঁশের গোড়ায় বরিক পাউডার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাঁশের মাঝখানে ছিদ্র করে ইনজেকশনের মাধ্যমে বরিক পাউডার দেওয়া হয়েছে। যাতে সামান্য বাতাসে বিদ্যুতিক তারের উপর হেলে বিদ্যুৎ ভ্রিমাট ঘটানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে বরিত পাউডার দেওয়ার কারণে বাঁশগুলো মরে যাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন কয়েকমাস আগে বিহারের পাশ^বর্তী বাসিন্দা যাত্রামোহন বড়ুয়া বাঁেশর গোড়ায় বরিক পাউডার ছিটিয়ে দিয়ে এই কাজটি সাধিক করেছিলেন। তবে পরিবেশ আদালতে শাস্তিযোগ্য অপরাধ কিনা তার জানা থাকলেও তিনি একজন বুদ্ধ ভিক্ষু হিসেবে বুদ্ধের পরিবেশ ও অধ্যাতিœক সংরক্ষণ ভাবনার অনুরাগী হয়ে ভূদং বাঁশগুলো সুকৌশলে নির্মূল করার যে অপতৎপরতা তার কাছে অর্মাজনীয় অপরাধ।

তিনি অবিলম্বে ধ্বংস হওয়া ভূদং বাঁশগুলোকে বাঁচানোর জন্য দক্ষ পরিবেশ বিজ্ঞানী বা কৃষিবিদের পরামর্শে সুরক্ষণের দাবী জানান। তবে এ ব্যাপারে যাত্রামোহন বড়ুয়ার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে বিহারের পাশে এক শতের অধিক ভূদং বাঁশ রয়েছে। এসব বাঁেশর মাঝখানে ছিদ্র করা হয়েছে এবং ছিদ্র করা বাঁশে সাদা পাউডার দেখা গেছে। ইতোমধ্যে অনেক বাঁশ মরেও যাচ্ছে।

আনন্দ বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি কাজল তালুকদার জানান, এ বিষয় নিয়ে আগামী শনিবার(৮মে) বিহার পরিচালনা কমিটির একটি জরুরী সভা ডাকা হয়েছে। সভায় সবাইয়ের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আরো জানান, এই বাঁশগুলো বিহার অধ্যক্ষের খুব প্রিয়। এজন্য হয়তো তিনি রাগ করেছেন। তবে বাঁশে বরিক পাউডার দেওয়া হয়নি ব্লিচিং পাউডার দেওয়া হয়েছে তার ধারনা।

 

রাঙামাটি |  আরও খবর
এইমাত্র পাওয়া
আর্কাইভ
সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত, ২০১৭-২০১৮।    Design & developed by: Ribeng IT Solutions