বৃহস্পতিবার | ১৪ নভেম্বর, ২০১৯

বান্দরবানে বন্ধ মিনি মৎস্য হ্যাচারীর কার্যক্রম, ভোগান্তিতে মাছ চাষীরা

প্রকাশঃ ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০৬:৩৮:০৯ | আপডেটঃ ১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০৪:৫৪:৪৯  |  ২১৬
সিএইচটি টুডে ডট কম, বান্দরবান। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় বন্ধ রয়েছে বান্দরবানের মিনি মৎস্য হ্যাচারী,দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় নষ্ট হচ্ছে সরকারের কোটি টাকার সম্পদ আর  হ্যাচারী থেকে মাছের পোনা না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে স্থানীয় মাছ চাষী ও ব্যবসায়ীরা।

সুত্রে জানা গেছে প্রকল্প না থকায় বন্ধ হয়ে গেছে বান্দরবানের সুয়ালকে অবস্থিত মিনি মৎস্য হ্যাচারী। প্রকল্প আসে আর প্রকল্প যায়। কিন্তুু স্থায়ী প্রকল্প না থাকায় নানা আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় প্রায় সোয়া ২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই হ্যাচারীর ভবিষ্যত হয়ে পড়েছে অনিশ্চিত। ২০১৮ সালের জুন মাসে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় এই হ্যাচারিতে সরকারিভাবে এখন মাছের পোনার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে,আর তাই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে অনাহারে দিন কাটছে প্রকল্পে কর্মরত থাকা কর্মচারীদের।

বান্দরবানের সুয়ালক মিনি মৎস হ্যাচারীর প্রকল্পে কর্মরত থাকা কর্মচারী ইতি বিকাশ ত্রিপুরা জানান,কিছুদিন আগে আমাদের প্রকল্প ছিল,তখন আমরা ভালোভাবে কাজ করেছিলাম।এই মিনি মৎস হ্যাচারীতে প্রচুর মাছের পোনা উৎপাদন হতো ,আমরা বিভিন্ন জায়গায় মাছের পোনা বিক্রি করতাম ,কিন্তু এখন প্রকল্প না থাকায় সকর কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

বান্দরবানের সুয়ালক মিনি মৎস হ্যাচারীর প্রকল্পে কর্মরত থাকা কর্মচারী মন্টু মারমা জানান, প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে অনাহারে দিন কাটাচ্ছি।আমরা সরকারের কাছে আশা করবো সরকার শীঘ্রই এই প্রকল্পটি আবারো ও সচল করবে এবং আমরা আগের মত মাছের রেনু উৎপাদন ও বিক্রি করে এলাকায় মাছ চাষ সম্প্রসারণ করতে পারবো।

সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকতার কার্যালয়ের তথ্যমতে বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালকে ৫.৫০ একর জমির উপর ২ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই মিনি মৎস্য হ্যাচারীটির উদ্বোধন হয় ২০১০ সালের ২৫ জুন। ন্যয্য দামে মাছ চাষীদের মাছের পোনা সরবরাহের লক্ষ্যে এখানে খনন করা হয় সাতটি পুকুর,নির্মাণ করা হয় ৪টি হেচিং জার, ২টি ট্যাংক, ১টি ওভারসেড ট্যাংক,১ টি ডিপ টিউবওয়েল,পরীক্ষাগার,স্টাফ কোয়ার্টারসহ বিভিন্ন স্থাপনা। তবে সরকারিভাবে প্রকল্প না আসায় হ্যাচারীর কার্যক্রম বন্ধ থাকায় মাছের পোনা উৎপাদন ও বিক্রি না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছে স্থানীয় মাছ চাষীরা। অনেক চাষী  তাই মাছ চাষ ছেড়ে খুজঁছে নতুন কর্মসংস্থানের।

স্থানীয় মাছ চাষী লোকমান জানান,একসময় আমরা এই মিনি মৎস্য হ্যাচারী পেতে প্রচুর মাছের পোনা কিনতাম,কিন্তু এখন এই মৎস্য হ্যাচারীর কার্যক্রম পুরোটাই বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয় মাছ চাষী আব্দুল জলিল জানান, বান্দরবানের সুয়ালক মিনি মৎস হ্যাচারীর কার্যক্রম দেখে আমি কয়েকটা পুকুরে মাছের চাষ শুরু করেছিলাম। কিন্তু মিনি মৎস হ্যাচারীর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা লোকসানে পরে গেলাম। আমরা এখন মাছের পোনা না পাওয়ার ব্যবসা বন্ধ করে দিয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পড়েছি। হ্যাচারীর কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এখানে উৎপাদন হচ্ছে না কোন মাছের পোনার, তাই অতিরিক্ত মুনাফা দিয়ে চট্টগ্রাম,দোহাজারী,পটিয়া,চকরিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চড়া দামে মাছের পোনা এনে তা চাষ করছে অনেক চাষী।
এদিকে মৎস কর্মকর্তারা ও এই মিনি মৎস হ্যাচারী বন্ধ থাকার কথা স্বীকার করে জানান, সরকারের কাছে প্রকল্প চালু করার জন্য প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছে এবং রাজস্ব খাতের আওতায় হ্যাচারির কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে এর সুফল পাবে মাছ চাষীরা। বান্দরবান সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন বলেন,প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বান্দরবানের সুয়ালক মিনি মৎস হ্যাচারীর কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে,প্রকল্প চালু করার জন্য আমরা উর্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে সুপারিশ পাঠিয়েছে,আশা করি প্রকল্প চালু হলে এই এলাকার মাছ চাষ সম্প্রসারণ ঘটবে। সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন আরো বলেন, আমরা রাজস্ব খাতের আওতায় এই মৎস্য হ্যাচারীর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পত্র পাঠিয়েছি, রাজস্ব খাতের আওতায় এর কার্যক্রম চললে কর্মরত সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে পর্যাপ্ত বেতন প্রদান করা যাবে এবং মাছের রেনু উৎপাদন আরো বৃদ্ধি পাবে।

স্থানীয় মাছ চাষীদের দাবি কালক্ষেপন না করে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এই মিনি মৎস্য হ্যাচারীর কার্যক্রম পুরোদমে শুরু করলে মাছের পোনা চাষে উপকৃত হবে স্থানীয় চাষীরা আর সরকারী কোষাগারে জমা হবে রাজস্ব ।

বান্দরবান |  আরও খবর
এইমাত্র পাওয়া
আর্কাইভ
সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত, ২০১৭-২০১৮।    Design & developed by: Ribeng IT Solutions