সোমবার | ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

কেপিএম’র সিবিএ নির্বাচন ১১জুন, নেই নির্বাচনী আমেজ

প্রকাশঃ ০৯ জুন, ২০১৯ ১১:০০:১০ | আপডেটঃ ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১২:৫৫:৪৬  |  ২১৬
সিএইচটি টুডে ডট কম, কাপ্তাই (রাঙামাটি)। কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনার ঐতিহ্যবাহী কর্ণফুলী পেপার মিলস্ লি. (কে.পি.এম) এর কালেক্টিভ বার্গেনিং এজেন্ট (সিবিএ) নির্বাচন মঙ্গলবার (১১ জুন) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এক রকম নিরোত্তাপ ভাবেই। এবারের সিবিএ নির্বাচনে বিগত দিনের তুলনায় নির্বাচনী প্রচারণা নেই বললেই চলে। এই প্রথমবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে তেমন প্রচার-প্রচারণা ছাড়া সিবিএ নির্বাচন।

মিলস্রে বর্তমান তিনটি শ্রমিক সংগঠনের মধ্যে দু’টি শ্রমিক সংগঠন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। সংগঠন গুলো হলো বর্তমান সিবিএ কেপিএম শ্রমিক-কর্মচারী পরিষদ (রেজিঃ নং চট্ট. ২৬২১) ও কেপিএম এমপ্লয়ীজ ইউনিয়ন (রেজিঃ নং চট্ট. ০৮)। কেপিএম ওর্য়াকাস ইউনিয়ন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। মিলস্ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক টাঙ্গানো তালিকা অনুযায়ী নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩১১ জন। এর মধ্যে নির্বাচনের আগে ৬ জন শ্রমিক অবসরে যাবে। অবশিষ্ট ৩০৫ জন শ্রমিক-কর্মচারী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে বলে মিলস্রে দায়িত্বশীল সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে।

কেপিএমে বিগত কয়েক বছর ধরে মারাত্বক অর্থ সংকট বিরাজ করছে। নিয়মিত শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। কর্মজীবিদের বহু টাকা পড়ে আছে বকেয়া। প্রায় ২-৩’শ অবসর প্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারীর জমা টাকা দিতে পারছেনা কর্তৃপক্ষ। এমতাবস্থায় সিবিএ নির্বাচনে নেতৃত্ব বাছাইয়ে কর্মজীবিরা অনেক চিন্তা ভাবনা কসছেন। মিলস্রে কয়েকজন শ্রমিক-কর্মচারীর সাথে আলাপকালে জানা গেছে, কর্মজীবিরা এমন নেতাদের সিবিএ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করতে চান, যারা অত্যান্ত নিয়মিত তাদের বেতন-ভাতা নিয়ে দিতে পারবে। শ্রমিকদের লাখ লাখ টাকা বকেয়া পড়ে আছে কর্তৃপক্ষের নিকট। সে সমস্ত টাকা নিয়ে দিতে কর্তৃপক্ষের সাথে কথা কাটাকাটি করতে পারবে, মিলের দৈন্যদশা কাটিয়ে মিলকে কিভাবে উৎপাদনমুখী করে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রুপান্তরিত করতে পারবে, এমন অভিজ্ঞ নেতৃত্বকেই তারা সিবিএ নির্বাচিত করতে চায়।

সাবেক কয়েকজন শ্রমিক জানান, এক সময় কেপিএমে সিবিএ নির্বাচন এলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দম ফেলার সুযোগ থাকত না। তখন ভোটার সংখ্যাই ছিল ৩-৪ হাজার। আর সিবিএ নির্বাচনকে ঘিরে তখন শ্রমিক সংগঠন গুলোর মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ লেগেই থাকত। তবে সেসব দিন এখন আর নেই।

এদিকে, কেপিএমের সিবিএ নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে মিলস্ কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান কেপিএমের জিএম (প্রশাসন) একরাম উল্ল্যাহ খন্দকার। তিনি আরো বলেন, ইতিমধ্যে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার জন্য কেপিএম গেস্ট হাউজে উপজেলা প্রশাসন, মিলস্ কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিক নেতাদের উপস্থিতিতে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

প্রসঙ্গত, সর্বশেষ মিলের আর্থিক সংকটের কারণে কেপিএম থেকে ২০১৬ সাল থেকে এপর্যন্ত প্রায় ৭-৮’শ শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তাকে অন্যত্র বদলী করা হয়েছে। ফলে শ্রমিক-কর্মচারীর সংখ্যা একেবারেই কমে গেছে।

রাঙামাটি |  আরও খবর
এইমাত্র পাওয়া
আর্কাইভ
সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত, ২০১৭-২০১৮।    Design & developed by: Ribeng IT Solutions