রাঙামাটি আসবাবপত্র বহুমুখী সমিতির নির্বাচনকে ঘিরে জমজমাট প্রচার প্রচারণা

প্রকাশঃ ০১ ডিসেম্বর, ২০২০ ০৭:৩৮:১৮ | আপডেটঃ ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ০৯:৫০:০৫
সিএইচটি টুডে ডট কম, রাঙামাটি। রাঙামাটি শহরের দ্বিতীয় অন্যতম ব্যবসায়িক সংগঠন আসবাবপত্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির নির্বাচনকে ঘিরে জমজমাট প্রচারণা চলছে। ৩রা ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। রাঙামাটির কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির পরে এই সংগঠনটির রয়েছে প্রভাব প্রতিপত্তি।  সংগঠনের অর্ন্তভুক্ত কয়েকশ ফার্নিচার ব্যবসায়ী থাকলেও ফার্নিচার ব্যবসা করেন না, এমন লোকদেরও সদস্য করা হয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে রাঙামাটি শহর পোষ্টারে পোষ্টারে ছেয়ে গেছে। নির্বাচনের শেষ সময় এসে কেউ কেউ জাতীয় রাজনীতির প্রভাব এবং টাকা দিয়ে ভোট কিনছেন এমন অভিযোগও শোনা যাচ্ছে।

আসবাবপত্র ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির নির্বাচনে ১০টি পদের মধ্যে ২ পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় ৮টি পদের বিপরীতে নির্বাচনে লড়ছেন ১৮জন প্রার্থী।

সভাপতি পদে মো: মিজান (ছাতা) ও মো: আমিনুল ইসলাম শামীম (চেয়ার), সহ-সভাপতি পদে মো: আলী (হাতি) ও মো: আব্দুল খালেক (মাছ)। সাধারণ সম্পাদক পদে মো: আব্দুল শুক্কুর (গোলাপ) ও মো: মহিউদ্দিন পেয়ারু (আনারস),  যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক পদে মো: আব্বাস আলী (দেওয়াল ঘড়ি) ও মো: আলফাতুল রহমান (তালা চাবি)। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মো: খুরশিত আলম রাজু (প্রজাপতি), মো: হারুনুর রশীদ (কাপ পরিচি) ও মো: নজরুল ইসলাম (বাইসাইকেল)। কোষাধ্যক্ষ পদে মো: এমদাদ হোসেন (বই), এম হিরো তালুকদার (মই) ও মো: সাইফুল ইসলাম খাঁ (হরিণ)। দপ্তর সম্পাদক পদে মো: হাসান (ডাব) ও উত্তম দেব (কাঁঠাল)। ক্রীড়া সম্পাদক পদে মো: আনোয়ার হোসেন (ক্রিকেট ব্যাট) ও মঈনুদীন শাকিল (ফুটবল)।

নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই প্রার্থীরা তাদের পছন্দের প্রতীক নিয়ে নিজেদের পক্ষে  ভোট প্রার্থণা করে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। ভোটারদের ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট চাইছেন। অনলাইন-অফলাইনে চালাচ্ছেন প্রচার-প্রচারণা। প্রার্থীরা দিচ্ছেন ব্যবসায়ী নেতা-কর্মীদের নানা উন্নয়ন ও সমিতির সদস্যদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার প্রতিশ্রুতি। নির্বাচনে প্রত্যেক প্রার্থী জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। নির্বাচনে কারা কারা বিজয়ী হবে তা জানতে হলে অপেক্ষা করতে হবে ৩ ডিসেম্বর ২০ইং পর্যন্ত ।

প্রচার সম্পাদক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মনির হোসেন নির্বাচিত হওয়ায় ওই পদে ভোট হচ্ছে না। সদস্য পদে ৩জনই থাকায় সেখানেও ভোট হচ্ছে না।
সমবায় সমিতির অর্ন্তভুক্ত আসবাবপত্র বহুমুখী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি এবং সাধারন সম্পাদক পদে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি আমিনুল ইসলাম শামীম এর সাথে তরুন উদয়ীমান ব্যবসায়ী যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ মিজানের লড়াই হবে। সাধারন সম্পাদক পদে লড়াই হবে বর্তমান সম্পাদক আবদুল শুক্কুর ও মহিউদ্দিন পিয়ারুর সাথে। আবদুল শুক্কর একসময় বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও গত সংসদ নির্বাচনে পুর্বে আওয়ামীলীগে যোগ দেন, আর পিয়ারু যুবলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। মোদ্দা কথা এবার সভাপতি ও সম্পাদক পদে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের মধ্যেই লড়াই হবে।

সভাপতি পদে আবারো প্রার্থী বর্তমান সভাপতি আমিনুল ইসলাম শামীম জানান, আবার সভাপতি নির্বাচিত হলে ফার্নিচার ব্যবসাকে শিল্প হিসাবে গড়ে তোলা, অস্বচ্ছল শ্রমিকদের ঋণ সহায়তা করা, সমিতির সদস্যদের প্রতিবছর বৃত্তি প্রদান করা , অদক্ষ শ্রমিকদের দক্ষ করার জন্য একটি আধুনিক প্রশিক্ষণ সেন্টার চালুর উদ্যোগ নেয়া হবে।

অপর প্রার্থী তরুন ব্যবসায়ী ও উদীয়মান যুব নেতা মোহাম্মদ মিজান জানান, সমিতির কাজ করার প্রত্যয় নিয়ে আগামী ৩ ডিসেম্বর -২০২০ ইং ৭ম ব্যবস্থাপনা কমিটির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে সভাপতি পদে পদপ্রার্থী হয়েছি। আমি নির্বাচিত হলে   বর্তমানে সমিতির অর্জিত সম্পদ সুরক্ষাসহ সমিতির অন্যান্য ক্রয়কৃত জমিতে স্থাপনা নির্মাণ পূর্বক সমিতির আয় বৃদ্ধি,  সংগঠনের বিধি ও গঠনতন্ত্রের আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ মৃত্যু ফান্ড বাস্তবায়ন করা, অর্থাৎ বর্তমান মৃত্যু ফান্ড থেকে দ্বিগুন করার চেষ্টা করা, প্রয়োজন সাপেক্ষে সমিতির সদস্যদের ব্যবসায় ঋণ সুবিধার ব্যবস্থা করা,  প্রয়োজন সাপেক্ষে সাধারণ সভার অনুমতি নিয়ে আর্থিক অস্বচ্ছল সদস্য ভাইদের স্কুল-কলেজ পড়–য়া ছেলে- মেয়েদের জন্য শিক্ষাভাতা/ এককালীন আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা এবং সমিতির সকল সদস্য সদস্যদের গচ্ছিত আমানত ১০০% সুরক্ষা করার সকল প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
বর্তমান সাধারন সম্পাদক ও সাধারন সম্পাদক প্রার্থী আবদুল শুক্কুর বলেন,  আমি বিজয়ী হলে মৃত্যুফান্ড ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা, বছরে উৎসব বোনাস, সমিতির সম্পদ বৃদ্ধি, সমিতির সদস্যদের মাঝে ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ এবং সমিতির সদস্যদের ছেলে মেয়েদের লেখা পড়ার উন্নয়নের জন্য বৃত্তি প্রদান করব। এছাড়া প্রাকৃতিক দুযোর্গ ও করোনা ভাইরাসের সময় যেভাবে সমিতির সদস্যদের পাশে থেকে সহযোগিতা করেছিলাম একইভাবে তাদের বিপদ আপদে পাশে থাকব।

সাধারণ সম্পাদক পদে অপর প্রার্থী ও যুবলীগ নেতা মহিউদ্দিন পিয়ারু বলেন,আমি এই সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সংগঠনে কতটুকু অবদান রেখেছি সে দিক বিবেচনা করে সদস্যরা অবশ্যই আমাকে মূল্যায়ন করবেন।  আমি নির্বাচিত হলে সংগঠনকে গতিশীল ও সদস্যদের সুঃখ-দুঃখের সাথী হিসেবে হাতে হাত রেখে কাঁদে কাঁদ মিলিয়ে সকলের সাথে পরামর্শ করে সংগঠনের উন্নয়ন করবো। আমি বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।

সমবায় সমিতি আইন/২০০১ (সংশোধিত/১৩) এর ১৮ (২) ধারা ও সমবায় বিধিমালা ২০০৪ এর ২৭ বিধি মোতাবেক এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত ১৬ নভেম্বর প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়। আগামী পরশু ৩ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার  সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সমিতির কার্যালয়ে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মোট ভোটার ৬৭৪জন।

নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল মতিন। সদস্য হিসেবে রয়েছে সাবেক প্যানেল মেয়র রবিউল আলম রবি ও সাবেক যুবলীগ নেতা মুজিবুর রহমান।

নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুল মতিন জানান, শান্তিপুর্ণভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে প্রার্থীরা, কোথাও কোন ধরণের অভিযোগ পাওয়া যায়নি, আশা করছি বৃহস্পতিবার শান্তিপুর্নভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।  

সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত, ২০১৭-২০১৮।    Design & developed by: Ribeng IT Solutions