করোনা পরিস্থিতি: খাগড়াছড়িতে জোরপূর্বক শ্রমিকদের কাজ করাচ্ছে ইট ভাটা মালিকরা

প্রকাশঃ ১৪ মে, ২০২০ ১২:৪৭:২১ | আপডেটঃ ০৮ জুলাই, ২০২০ ০৪:২৬:৩৯
সিএইচটি টুডে ডট কম, খাগড়াছড়ি। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে যেখানে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সেখানে ভিন্ন চিত্র খাগড়াছড়ির ইটভাটাগুলোতে। ভাটা শ্রমিকদের জোরপূর্বক আটকে রেখে কাজ করানো হচ্ছে। আর প্রতিবাদ করায় মধ্যযুগীয় কায়দায় পায়ে শিকল বেধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের মালিকাধীন ভাটার বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, গুইমারা উপজেলার আমতলী পাড়া এলাকায় জাহাঙ্গীর আলমের মালিকাধীন ফোর স্টার ব্রিকস ফিল্ডে শ্রমিক নির্যাতনের খবর পেয়ে শিকলবন্দী দুই শ্রমিকদের উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে এ ঘটনায় নির্যাতিত শ্রমিকের ভাইয়ের করা মামলায় একজনকে গ্রেফতার করা হলেও এখনও পলাতক নির্যাতনের সাথে জড়িতরা। আর মামলা থেকে কৌশলে মূল হোতাদের বাদ দেয়ার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীরা জানান, মাটিরাঙ্গার ১০ নং মুসলিমপাড়ার এলাকার মৃত ফয়েজ বক্সের ছেলে হেলাল মিয়া ও সুরুজ আলীর ছেলে আলাল হোসেন পাশ্ববর্তী উপজেলা গুইমারার আমতলী পাড়ায় যায় ভাটা শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে। করোনা পরিস্থিতিতে সংক্রমণের ভয়ে তারা কাজ না করে বাড়ি ফিরতে চান। এ সময় মালিক পক্ষের লোকজন থেকে তাদের বকেয়া মজুরি দাবি করার পর তাদের ওপর শুরু করে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন। ভাটার একটি শেডে দুইজনকে পায়ে শিকল বেধে আটকে রাখা হয়।

দীর্ঘদিন স্বজনদের সাথে যোগাযোগ করতে না পেরে গত মঙ্গলবার তাদের সন্ধানে ব্রিকস ফিল্ডে যায় হেলাল মিয়ার ভাই। তখন অন্য শ্রমিকদের কাছ থেকে দুইজনকে শিকল দিয়ে বেধে রাখার খবর শুনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর পর সেনাবাহিনীর সহযোগীতায় তাদের উদ্ধার করা হয়।
এ সময় ভাটা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মাহবুব হোসেনকে আটক করে পুলিশ। পরে নির্যাতিত হেলাল মিয়ার বড় ভাই দুলাল মিয়া বাদি হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৫জনকে আসামী করে। এ মামলায় মাহবুব হোসেনকে গ্রেফতার দেখানো হলেও এখনও অন্যদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। আর কৌশলে নির্যাতনের মূল হোতা গুইমারা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমকে বাদ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
গুইমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, ইট ভাটায় শ্রমিকদের শিকল দিয়ে বেধে রেখে নির্যাতনের খবর পাওয়ার পর তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের পর একজনকে আটক করা হয়েছে। অন্য আসামীদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে তাদের নাম উল্লেখ করে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ভাটা মালিক ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, গুইমারা উপজেলা ইটভাটা রয়েছে ৫ টি। যার কোনটিতে নেই শ্রমিকদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। কৃষি জমি, পাহাড় টিলার মাটি কেটে এবং বনাঞ্চল ধ্বংস করে চলছে এসব ইটভাটা।

সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত, ২০১৭-২০১৮।    Design & developed by: Ribeng IT Solutions