রবিবার | ১৭ অক্টোবর, ২০২১

বিলুপ্তির পথে পার্বত্যঞ্চলের বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান বাঁশ

প্রকাশঃ ১৯ অগাস্ট, ২০২১ ০৬:২২:৪৮ | আপডেটঃ ১৭ অক্টোবর, ২০২১ ১২:১৩:২৩  |  ৩৭৯
কৌশিক দাশ, সিএইচটি টুডে ডট কম, বান্দরবান। পার্বত্যঞ্চলে অবাধে বাঁশকোড়ল (চারা বাঁশ) আহরণ করে বাঁশ নিধনের কারণে বিলুপ্তির পথে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাকৃতিক মূল্যবান বাঁশ সম্পদ। তিন পার্বত্য জেলার বাজারগুলো এখন বাঁশকোড়লে ভরপুর। ব্যবসায়ীরাও বাজারগুলো থেকে বাঁশকোড়ল সংগ্রহ করে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সবজি হিসেবে বিক্রি করছে। প্রতিদিন বাজারগুলোতে প্রায় কয়েক হাজারেও বেশি বাশঁকোড়ল বিক্রি হচ্ছে। এতে পার্বত্যঞ্চলের বিভিন্ন প্রজাতির বাশঁ নিধন হয়ে যাচ্ছে।

বিগত ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার প্রাকৃতিক পাঁয়া বাঁশ,  মূলি বাঁশ, মিতা বাঁশ, ওড়া বাঁশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান বাঁশের জন্য বিখ্যাত ছিল, কিন্তু এই হঠাৎ করে কোন প্রকার নিয়মনীতি ছাড়াই বাশঁ কোড়ল  আহরণ করে সবজি খাদ্য হিসেবে ব্যবহার, অবাধে বাশঁ বাজারজাত এবং ব্যাপক হারে বাঁশ নিধন করা হচ্ছে।

অপরিকল্পতিভাবে বনাঞ্চল কেটে আগুনে পুড়িয়ে তৈরিকৃত জমিতে জুমচাষের ফলে বিলুপ্তির পথে রয়েছে প্রাকৃতিক মূল্যবান এ বাঁশ সর্ম্পদ। এই বাশঁ দিয়ে ঘরবাড়ি তৈরি,আসবাবপত্র তৈরি ইত্যাদি কাজে এটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে, তাও হারিয়ে যাচ্ছে।

পার্বত্যঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্টি সম্প্রদায় সবজি হিসেবে বিভিন্নভাবে বাঁশ কোড়ল রান্না করে খেয়ে থাকে তাদের দেখা দেখিতে এখন বাঙ্গালীরা ও তাদের খাদ্য তালিকায় এই বাঁশকোড়ল যোগ করেছে।



বন বিভাগের তথ্যমতে, জুন, জুলাই এবং আগষ্ট এই তিন মাস পার্বত্যঞ্চলে বাশঁ কর্তন বন্ধ রাখা এবং পরিবহন করার অনুমতি দেওয়া হয়না,বর্ষাকালে বাশেঁর বংশবৃদ্ধি হয়,যার কারণে তিন মাস বাঁশ কর্তনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

এদিকে পার্বত্যঞ্চলে বাঁশ কোড়ল সবজি হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে। বর্ষায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্টির জনসাধারণ পাহাড়ের গহীণ জঙ্গল থেকে বাঁশকোড়ল সংগ্রহ করে বাজারে এনে বিক্রি করে এবং নিজেরা ও  খেয়ে থাকে। ৫-৬টি ছোট বাঁশের একটি বান্ডিল বিক্রি হয় ৫০-৮০ টাকা পর্যন্ত। যার যেমন ছাহিদা সে অনুযায়ী ক্রয় করে বাড়ীতে গিয়ে এই বাঁশ পরিস্কার করে সিদ্ধ করে রান্না করা যায় বিভিন্নভাবে।

বান্দরবানের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞা বলেন, বাঁশের যেই কোড়ল বা চারা গজায় স্থানীয়রা সেটাকে পাহাড় থেকে সংগ্রহ করে সবজি হিসাবে ব্যবহার করে থাকে। বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞা আরো বলেন,প্রতিবছর মুলত বর্ষা মৌসুমে পাহাড় থেকে বাঁশের কচি অংশটা আহরণের ফলে আমাদের নতুন বাঁশের বংশ বিস্তার হচ্ছে না। আমরা বন বিভাগের প্রতিটি রেঞ্জের অফিসের মাধ্যমে পাড়া-মহল্লায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, হেডম্যান-কারবারীদেরকে নিয়ে সচেতনতামুলক উঠান বৈঠক করি, তাদের মাধ্যমে স্থানীয়দেরকে বুঝানো হচ্ছে যে,বাশঁগুলো নষ্ট না করে সংরক্ষন করা হলে তারা আরো লাভবান হবে। তবে স্থানীয়  অনেক বাসিন্দা এখনো সচেতন না হওয়ায় প্রতিবছরই প্রচুর বাঁশ জন্মের পরপরই ধংস হয়ে যাচ্ছে, এতে একদিকে বাঁশের চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না এবং অন্যদিকে তারা ও ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

বন কর্মকর্তা আরো বলেন,সবাই যদি সচেতন হয় তাহলে বান্দরবান আরো সবুজ হবে সুন্দর হবে এবং পার্বত্যঞ্চল মূল্যবান বাঁশ সম্পদে ভরপূর থাকবে।


অর্থনীতি |  আরও খবর
এইমাত্র পাওয়া
আর্কাইভ
সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত, ২০১৭-২০১৮।    Design & developed by: Ribeng IT Solutions