সোমবার | ০১ জুন, ২০২০
টাকার উৎস নিয়ে নানা প্রশ্ন

টাকা চুরির অপবাদ ও মারধরের ঘটনায় রামগড়ে এক যুবকের রহস্য জনক মৃত্যু

প্রকাশঃ ১৮ মে, ২০২০ ০৫:৩৪:১৪ | আপডেটঃ ০১ জুন, ২০২০ ০১:১১:৩৪  |  ৩৫৫
সিএইচটি টুডে ডট কম, খাগড়াছড়ি। টাকা চুরির অপবাদ ও মারধরের ঘটনায় খাগড়াছড়ি জেলার রামগড়ে  উলাপ্রু মারমা সুমন (৩২) নামের এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। রামগড় খাদ্য গুদামে এ ঘটনা ঘটে। সুমন রামগড় খাদ্য গুদামের  অস্থায়ী কর্মচারী (ঝাড়–দার)  হিসেবে কর্মরত ছিল।

জানাগেছে, গত ১৬ মে রামগড় খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অফিস কাম বাসা থেকে সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা চুরির বিষয়ে অভিযুক্ত করে সুমনকে গালমন্দ ও শাসানো হয়। পরবর্তীতে তার বড়ভাই রাজু মারমাকে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ ও মারধর করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সুমন বার বার টাকা চুরির ঘটনার সাথে সে জড়িত নয় দাবী করলেও  নানাভাবে তাকে ভয়ভীতি এবং হুমকি প্রদান করা হয়। এতে সুমন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে  পড়ে।

টাকা চুরির  মিথ্যা অপবাদ ও অপমান সহ্য করতে না পেরে রাগে ক্ষোভে সে শনিবার(১৬ মে) সন্ধ্যায় গুদাম এলাকার একটি কক্ষে  বিষপান  করে। পরে  স্টাফরা  গোঁঙরানীর শব্দ শুনে  তাকে উদ্ধার  করে  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর জরুরি বিভাগে ভর্তি করে। খবর পেয়ে রামগড়  থানার ওসি (তদন্ত ) এসআই আনোয়ার  হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুমনের সুমনের জবান বন্ধী রেকর্ড করেন। জবানবন্ধীতে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনার জন্য গুদাম কর্মকর্তা এবং মারধরের ঘটনায় তার বড়ভাই রাজু মারমাকে দায়ী করেন।  রবিবার (১৭ মে) দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায়  সে মারা যায়।

খবর পেয়ে রামগড় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিকিৎসাধীন সুমন মারমাকে দেখতে যান রামগড় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বিশ^প্রদীপ কার্বারী,রামগড় উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা আব্দুল কাদেরসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

এদিকে, পুলিশ  হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার  করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে।

তবে যে টাকা চুরির জন্য এ মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটলো তা রহস্যই থেকে গেলো। খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার অফিসে এতগুলো নাগদ টাকা কোথা থেকে আসলো এ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদ ভুইয়া পুরো বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন সংবাদ মাধ্যমে কথা না বলে। বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কানিজ জাহান বিন্দুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য ৩ সদস্যেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দুই কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।

খাগড়াছড়ি |  আরও খবর
এইমাত্র পাওয়া
আর্কাইভ
সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত, ২০১৭-২০১৮।    Design & developed by: Ribeng IT Solutions