শনিবার | ২৫ জানুয়ারী, ২০২০

চোখের জলে সংঘরাজ অভয় তিষ্যকে বিদায় জানালেন লাখো মানুষ

প্রকাশঃ ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১০:৫২:১১ | আপডেটঃ ২৪ জানুয়ারী, ২০২০ ১১:০৩:৪৬  |  ১৬৮৭
হিমেল চাকমা, বাঘাইছড়ি থেকে ফিরে। চোখের জলে পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের সংঘরাজ  পন্ডিত বৌদ্ধ সাধক ভদন্ত অভয় তিষ্য মহাস্থবিরকে শেষ বিদায় জানিয়েছেন লাখো মানুষ। বুধবার বিকাল চার টায় রাঙামাটির বাঘাইছড়ি শিজক মুখ সার্বজনীন বৌদ্ধ বিহারের পাশে কাচালং নদীর তীরে হাজার হাজার আতশবাজি ফুটিয়ে ভস্মিভুত করা হয় অভয় তিষ্যর মরদেহটি।

পন্ডিত এ ভিক্ষুকে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য লাখো মানুষের ঢল নামে শিজক মুখ এলাকায়। বিভিন্ন এলাকা থেকে সকালে শিজক কলেজ মাঠে জড়ো হয় লাখো মানুষ।

সেখানে আয়োজন করা হয় পঞ্চশীল গ্রহণ, করা হয় সংঘদান, অষ্ট পরিস্কার দান, সংঘদান, বুদ্ধমুর্তি দান ও শেষ শ্রদ্ধা অনুষ্ঠানের স্মরণ সভা।

সভায় ধর্ম দেশনা দেন রাঙামাটি রাজবন বিহারের অধ্যক্ষ প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির, পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের সভাপতি শ্রদ্ধালংকার মহাস্থবির, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি বিভাগের চেয়ারম্যান জ্ঞানরত্ম মহাস্থবির।


ধর্মীয় ও দাহক্রিয়া অনুষ্ঠানে মহিলা সংসদ সদস্য বাসন্তী চাকমা, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শতরুপা চাকমা,  রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য সবির কুমার চাকমা, রাঙামাটি জেলা ছাত্র লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ চাকমা’সহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বৌদ্ধ ভিক্ষু, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে কয়েক হাজার বৌদ্ধ নর-নারী অংশ নেন।

এদিকে রাঙামাটি জেলা পরিষদ পরিবারের পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান  বৃষ কেতু চাকমা মহাপ্রয়াণপ্রাপ্ত মহামান্য সংঘরাজ প্রয়াত অভয়তিষ্য মহাথেরোর কেবিনে ফুল দিয়ে তাকে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় শ্রদ্ধা নিবেদনকালে তার সহধর্মীনি উপস্থিত ছিলেন।

ধর্মীয় আলোচনাসভায় বক্তরা বলেন, যুগে যুগে পৃথিবীতে শান্তির বানী ছড়িয়ে দিতে কোন কোন মহামানবের জন্ম হয়। সেই মহামানবের মধ্যে একজন হলো মহাপ্রয়াণপ্রাপ্ত সংঘরাজ অভয়তিষ্য মহাথেরো। তিনি সর্বদাই মানব ও প্রাণীকুলের মঙ্গলার্থে বুদ্ধের ধর্মীয় ও শান্তির বানীগুলো ছড়িয়ে গেছেন। যার ফলে সমাজে এখনো আতর্œমানবতা সেবা, বিশ^াস ও কল্যাণকর কাজগুলো হচ্ছে। বক্তরা বলেন, এখনো আমাদের সমাজে কিছু কিছু মানুষ রয়েছে যারা ভালো ও খারাপ কাজগুলো জেনে বুঝে খারাপ কাজে অগ্রসর হয়ে থাকে। ফলে ইহকালেই সেই খারাপ কাজ গুলোর ফল ভোগ করে থাকে। তাই বুদ্ধের বানীগুলোকে বুলে লালন পালন করে আমাদের সত্য ও ন্যয়ের পথে এগিয়ে যেতে হবে। খারাপ কাজ গুলো পরিহার করে দানশীল মনোভাব, মন থেকে হিংসা দূর করে মানব প্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে হবে।  তবেই সমাজ তথা দেশ এগিয়ে যাবে।




সর্ব সাধারণের শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সুবিধার্থে অভয় তিষ্যকে মরদেহটি শিজক কলেজ মাঠে পশ্চিম প্রান্তে রাখা হয়। এ সময় লাখো মানুষ তার মরদেহে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

দুপুর আড়াই টা পর্যন্ত চলে এ শ্রদ্ধা নিবেদন। পরে সেখান থেকে মরদেহটি কাচালং নদীর পাড়ে নেওয়া হয়।  অভয় তিষ্যর শিষ্যমন্ডলীরা মরদেহের কফিনটি বহন করেন। পরে সেখানে পরিবেশন করা হয় কাটলা নৃত্য। নৃত্য পরিবেশন শেষে হাজার হাজার আতশবাজি ফুটিয়ে ভস্মিভুত করা হয় অভয় তিষ্যর মরদেহটি।

এ বছর ২২ ফেব্রুয়ারী দেহ ত্যাগ করেন অভিয় তিষ্য। এতদিন তার দেহ বাঘাইছড়ি শিজক মুখ সার্বজনীন বৌদ্ধ বিহারে মমি আকারে সংরক্ষণ করা হয়। প্রয়াত অভয় তিষ্য পার্বত্য চট্টগ্রামে বৌদ্ধ ধর্ম প্রচারের পাশাপাশি একাধিক অনাথ আশ্রম প্রতিষ্ঠা করে দুর্গম এলাকায় শিক্ষা বিস্তারে  গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখেন।

রাঙামাটি |  আরও খবর
এইমাত্র পাওয়া
আর্কাইভ
সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত, ২০১৭-২০১৮।    Design & developed by: Ribeng IT Solutions