শিরোনামঃ

রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের বিবৃতি

“হত্যা আর পদত্যাগের ভয় দেখিয়ে আওয়ামীলীগকে নিশ্চিহৃ করা যাবে না”

সিএইচটি টুডে ডট কম, রাঙামাটি। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ রাঙামাটি জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক হাজী মুছা মাতব্বর এক বিবৃতিতে বলেছেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে জুরাছড়ি উপজেলার ১০/১২জন উপজাতীয় নেতা-কর্মী আওয়ামী লীগের সংগঠন থেকে পদত্যাগের সংবাদ প্রকাশিত হলেও কোনো পদত্যাগ পত্র জেলা আওয়ামী লীগ এর বরাবর আসেনি। পরস্পর শোনা যাচ্ছে যে, জেএসএস (সন্তু গ্রুপ) আওয়ামী লীগের উপজাতীয় বিভিন্ন নেতা-কর্মীদের জোর পূর্বক পদত্যাগ পত্র গ্রহণ করছে।

এ ধরণের চাপের মুখে যদি কোনো নেতা-কর্মীকে পদত্যাগের জন্য বাধ্য করে, তাহলে রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগ এর কাছে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। শত অপচেষ্টা করলেও রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামী লীগ সব বিষয় রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করে আসছে। হত্যার ভয় আর পদত্যাগে বাধ্য করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করা যাবে না। কেননা আওয়ামী লীগ ভেসে আসা কোনো দল নয়, আওয়ামী লীগ বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী তৃণমূলের সংগঠন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ত্রবাজিতে বিশ্বাস করে না। আওয়ামী লীগ জনগণের ক্ষমতায়ন ও গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে।

আজ সন্ধ্যায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মূল নীতি অসাম্প্রদায়িক চিন্তা চেতনাকে ধারণ করে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সময় যাবৎ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মত অত্রাঞ্চলে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সমন্বয়ে রাজনৈতিক কর্মকা- পরিচালনা করে আসছে। অতীব দুঃখের বিষয় এই যে, বিগত কয়েক বৎসর ধরে পরিলক্ষিত হচ্ছে যে, স্থানীয় আঞ্চলিক দল জেএসএস আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বিশেষ করে পাহাড়ী জনগোষ্ঠী যারা আওয়ামী লীগ সংগঠনের সাথে জড়িত, তাদেরকে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে। যেন আওয়ামী লীগ সংগঠন না করে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের মত ঘটনাও একাধিক বার ঘটেছে। ইতোমধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বাবু অনীল তনচঙ্গ্যাকে অপহরণের পর হত্যা করে, রাজস্থলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বাবু মংকিউ মার্মাকে নীজ বাড়ীতে গুলি করে হত্যা করে।

গত ২ ডিসেম্বর ২০১৭ খ্রি: তারিখ শান্তি চুক্তির ২০তম বর্ষপূর্তি উদযাপনের প্রাক্ষালে জেএসএস সভাপতি ও আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র রোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) প্রকাশ্যে তিন পার্বত্য জেলায় আগুন জ্বালানোর হুমকি দিলে গত ৫ ডিসেম্বর ২০১৭ খ্রি: তারিখ রাঙ্গামাটি জেলাধীন জুরাছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি বাবু অরবিন্দু চাকমাকে বাড়ী থেকে ডেকে নিয়ে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করে। একই দিন বিলাইছড়ি উপজেলার উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বাবু রাশেল মার্মাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে। যিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।

উপরে উল্লেখিত ঘটনাসমূহের প্রতিবাদে রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগ ৬ ডিসেম্বর ২০১৭ খ্রি: তারিখ প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিলে প্রতিবাদ সমাবেশে রাঙামাটি জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ঝর্ণাখীসা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বক্তৃতা রাখলে ঐদিনই রাতে ঝর্ণাখীসার বাড়ীতে ৫০/৬০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী হানাদিয়ে ঝর্ণাখীসা ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণ নাশের লক্ষ্যে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে। তিনিও চিকিৎসাধীন অবস্থায় চট্টগ্রাম রয়েছেন।

এরপরও তারা ক্ষান্ত হয়নি। বিভিন্ন উপজেলায় আওয়ামী লীগ এর উপজাতি নেতা-কর্মীদের মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে দল থেকে পদত্যাগের জন্য চাপ সৃষ্টি করে আসছে। জুরাছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক বাবু অরবিন্দু চাকমাকে হত্যার পর জেএসএস সন্ত্রাসীরা আওয়ামী লীগ এর স্থানীয় উপজাতীয় নেতা-কর্মীদের দল থেকে পদ ত্যাগের জন্য অস্ত্রের মুখে বাধ্য করছে।

বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা না হলে চলমান খুন, গুম, অপহরণ ও অস্ত্রের মূখে বেপরোয়া চাঁদাবাজিসহ এধরনের শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি চলতেই থাকবে। এ পরিস্থিতি থেকে তিন পার্বত্য জেলার জনগণকে মুক্তি দেওয়ার জন্য অচিরেই অবৈধ অস্ত্রধারীদের গ্রেফতারসহ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের কার্যকর পদক্ষেপ করে দেশের অন্যান্য সমতল জেলার ন্যায় যৌথ বাহিনীর অভিযান পরিচালনার জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।

Print Friendly, PDF & Email

Share This:

খবরটি 281 বার পঠিত হয়েছে


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*
*

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

ChtToday DOT COMschliessen
oeffnen