শিরোনামঃ

একান্ত সাক্ষাতকারে যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা

শান্তি চুক্তি অনুযায়ী ২০ দফা প্যাকেজ বাস্তবায়নে কাজ করছে টাস্কফোর্স

সিএইচটি টুডে ডট কম। পার্বত্য চট্টগ্রামে যখন অস্থিরতা এবং যুদ্ধাবস্থা ছিল তখন প্রাণ বাঁচাতে অনেক পাহাড়ী  ভারতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেয়, পার্বত্য শান্তি চুক্তির পর সরকার সে সব শরণার্থীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে চুক্তি মোতাবেক “ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরণার্থী প্রত্যাবাসন ও পুর্নবাসন এবং আভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু নির্দিষ্টকরণ ও পুনর্বাসন টাস্কফোর্স” গঠন করে। শান্তি চুক্তি অনুযায়ী ২০ দফা প্যাকেজ বাস্তবায়নে কাজ করছে সংস্থাটি এমনটা জানালেন টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান (প্রতিমন্ত্রী) যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা।

তিনি আরো জানান, পার্বত্য শান্তি চুক্তির (ঘ) ১ ধারা মোতাবেক ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে অবস্থানরত উপজাতীয় ১২,২২২টি পরিবারের ৬৪ হাজার ৬১২জনকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং তাদের ২০ দফা প্যাকেজ অনুযায়ী পুর্নবাসন করা হয়েছে, তবে কিছু পরিবার নিয়ে সমস্যা রয়েছে এসব যাচাই বাছাই চলছে। ভারত প্রত্যাগত শরণার্থীদের মধ্যে খাগড়াছড়িতে ১২,১৬৯ পরিবার এবং রাঙামাটিতে ৫৩ পরিবারকে পুর্নবাসন করা হয়েছে।

সম্প্রতি খাগড়াছড়িতে ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরণার্থী প্রত্যাবাসন ও পুর্নবাসন এবং আভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু নির্দিষ্টকরণ ও পুনর্বাসন টাস্কফোর্স
কার্যালয়ে সিএইচটি টুডে ডট কম এর সাথে আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন।

টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান আরো বলেন, আমরা কোন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারি না, কেবল সুপারিশ করতে পারি। ২০ দফা প্যাকেজের মধ্যে ভারত প্রত্যাগত শরণার্থীদের গৃহ নির্মাণের জন্য নগদ ১৫ হাজার টাকা, চাল, ডাল, তেল এবং তেল রেশন হিসেবে দেয়া হচ্ছে, ঋণের টাকা মওকুফ, মামলা প্রত্যাহার, মালিকাধীন জমি প্রত্যপর্নসহ চাকুরি দেয়া হয়েছে।
যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা জানান, চুক্তি অনুযায়ী শরনার্থীদের প্রায় ২৮টি জায়গাতে পুনর্বাসন করা হয়েছে, কিছু মামলাজনিত কারনে বাকি আছে। এসব আমরা সরকারকে জানিয়েছি মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হলে আমাদের কাজ শেষ হয়ে যাবে। কিছু শরনার্থী প্যাকেজের মধ্যে নাই। কারণ তারা চুক্তির আগে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরত এসেছে এরকম সংখ্যা ৩শতাধিক। তারা আসার পরে সরকার থেকে কিছু সুযোগ সুবিধা পেয়েছে। এখন তাদেরও দাবি হচ্ছে এই চুক্তির মাধ্যমে যেন সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়। তাদের এই দাবি আমরা সরকারকে জানিয়েছি।

আরেক প্রশ্নের জবাবে টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান বলেন, পাহাড়ে পুর্নবাসিত বাঙালী রয়েছে ভারত প্রত্যাগত শরণার্থীসহ উদ্ধাস্ত রয়েছে সরকার বছরে বছরে তাদের পেছনে হাজার হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশষ্যে বরাদ্ধ দিচ্ছে এসব কতদিন চলবে। এগুলো বন্ধ হওয়া উচিত, মানুষকে অলস না বানিয়ে তাদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা দরকার। যারা ক্ষতিগ্রস্ত না
পাকিস্তানি বার্মাইয়া লোক তারাও এখানে বসে আছে। তাদের পুনর্বাসনে সরকারের পরিকল্পনা করা উচিত।

শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের আন্তরিকতার কারনে ১৯৯৭ সনের ২রা ডিসেম্বর শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, চুক্তির বেশীর ভাগই বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ভুমি কমিশন পুরোদমে কাজ শুরু করলে এবং ভুমি বিরোধ নিষ্পত্তি হলে চুক্তির সফলতা আসবে। শান্তি চুক্তির ফলে পার্বত্য এলাকায় উন্নয়নের জোয়ার বইছে। চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে মত পার্থক্য থাকতে পারে তবে চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারকে সহায়তা করতে হবে।

পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবির বিষয়ে টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান বলেন, অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারকারীরা জনগনের শত্রু, অবৈধ অস্ত্র দিয়ে মানুষকে জিম্মি করে সন্ত্রাসী চাদাবাজি করা হয় আমিও চাই সরকার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করুক।

খাগড়াছড়ি আওয়ামীলীগের গ্রুপিং সর্ম্পকে যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, আমি ২০০৪-২০১৩ইং পর্যন্ত জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ছিলাম। তখন কোন গ্রুপিং ছিলো না। এখন কেনো গ্রুপিং শোনা যায়, এর কারণটা নির্ণয় করা দরকার। এটা কেন্দ্র থেকে দেখা দরকার। যদি গ্রুপিং থাকে তাহলে আগামী নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে। দ্বন্দ্বের শুরুতে যদি কেন্দ্র হস্তক্ষেপ করত তাহলে এতদিনে এগুলো নিষ্পত্তি হয়ে যেত। আমার মনে হয় কেন্দ্র চাইলে এগুলো কোন ব্যাপার না। দুই গ্রুপের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হয়ে যেত। কিন্তু সমাধানের পথে কেউ না হেটে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে এটা সরকার ও দলের জন্য বিব্রতকর।

আগামী নির্বাচনে কে মনোনয়ন পাবেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনে অনেকেই মনোনয়ন চাইতে পারে। তবে দল যাকে দিবে তাকেই সমর্থন করবো আমরা, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

প্রসঙ্গত: ১৯৯৮ সনের ২০ জানুয়ারী ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরণার্থী প্রত্যাবাসন ও পুর্নবাসন এবং আভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু নির্দিষ্টকরণ ও পুনর্বাসন টাস্কফোর্স গঠিত হয়। এর প্রথম চেয়ারম্যান ছিলেন কল্প রঞ্জন চাকমা এমপি, পরে দীপংকর তালুকদার এমপি ও সমীরণ দেওয়ান দায়িত্ব পালন করেন। সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরাকে সরকার প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় ২০০৯ সনের ২৭ আগষ্ট টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেন, তিনি অদ্যাবধি দায়িত্ব পালন করছেন।

Print Friendly, PDF & Email

Share This:

খবরটি 700 বার পঠিত হয়েছে


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*
*

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

ChtToday DOT COMschliessen
oeffnen