শিরোনামঃ

জিমনিসিয়ামে পানি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে

প্রশাসনের খাতায় নেই, বাস্তবে ৭১ পরিবার আশ্রয় কেন্দ্রে

সিএইচটি টুডে ডট কম, রাঙামাটি। গত ৭ সেপ্টেম্বর বন্ধ করে দেয়া হয়েছে আশ্রয় কেন্দ্র, কিন্তু পাহাড় ধব্বসে সব হারিয়ে ঠিকানাবিহীন ৭১টি পরিবারের ২৩৮জন সদস্য এখনো দুটি আশ্রয় কেন্দ্রে রয়ে গেছে। গত ১৩জুন পাহাড় ধব্বসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়ার পর প্রশাসন থেকে সকালে শিশুদের বন বা পাউরুটি আর বড়দের জন্য দুইবেলা ভাত দিত। কিন্তু ৭সেপ্টেম্বর আশ্রয় কেন্দ্র বন্ধ করে দেয়ার পর প্রশাসন থেকে গত ৫দিনে আশ্রয় কেন্দ্রে কোন খাবার সরবরাহ করা হয়নি। এতে অনাহারে থাকতে হচ্ছে এসব আশ্রিত পরিবারকে। উপরন্ত আজ থেকে জিমনিসিয়ামে পানি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন, এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে আশ্রিত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে। বিশেষ করে মহিলা এবং শিশুরা বেশী ভোগান্তিতে পড়েছে।
আশ্রিতরা জানান, মাঝে মধ্যে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা আশ্রয় কেন্দ্রে এসে আশ্রয় কেন্দ্র ছাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। মনোঘর ভাবনা কেন্দ্রে ৬০ পরিবারের ২১০জন সদস্য এবং জিমনিসিয়াম ১১টি পরিবারের ২৮জন সদস্য মোট ২৩৮জন রয়েছে। দুটি আশ্রয় কেন্দ্রে এখন ৭১টি পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছে।
পুর্নবাসন করার আশ^াস দিয়ে আশ্রিতদের এক অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে রাঙামাটিতে গত ১৩ জুন পাহাড় ধসের ঘটনায় খোলা আশ্রয় কেন্দ্রগুলো। এদিকে কোথায় যাবে কী করবে- এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে আশ্রয় কেন্দ্র ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে সর্বশেষ অবস্থান করা ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে। কিছু নগদ অর্থসহ ত্রাণ দিয়ে কেন্দ্র থেকে বিদায় দেয়া হলেও অনেকে তাও পাননি বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।
আশ্রিতরা অভিযোগ করছে জেলা প্রশাসন তাদের পুনর্বাসন ও ঘরবাড়ি নির্মান করে দিকে এমন আশ^াস দেয়াতে তারা এতদিন আশ্রয় কেন্দ্রে ছিল, এখন চাল ও টিন আর অল্প নগদ টাকা দিয়ে কি করবে তারা বুঝতে পারছেন না।
মোনঘর ভাবনা কেন্দ্রের কালাময় চাকমা ও জিমনেসিয়াম কেন্দ্রের জগদীশ চাকমা বলেন, আমাদের বাড়িঘর সব ভেঙে গেছে। হারিয়েছি সব সহায়সম্বল। এতদিন সরকারের আশায় দিন গুনছিলাম। শেষ পর্যন্ত পুনর্বাসনের কোনো নিশ্চয়তা ছাড়াই আমাদেরকে মাত্র ১ হাজার টাকা এবং ২০ কেজি চাল দিয়ে আশ্রয় কেন্দ্র থেকে বিদায় নিতে বলা হয়েছে। এগুলো নিয়ে আমরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াব। আমাদের তো যাওয়ার কোথাও নেই। নেই কোনো সহায় সম্বল। না খেয়ে যতদিন পারি তো বাঁচব। পরে মরণের সময় হলে মরব। এ ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার নেই। এভাবে মনে দারুণ হতাশা আর চোখে জল নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন এসব সর্বহারা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ।
মনোঘর ভাবনা কেন্দ্রের লাভলী বড়–য়া, মরিচা দেওয়ানসহ অনেকে অভিযোগ করেছে, সরকার বলছে পুনর্বাসন করবে, ঘরবাড়ি তৈরি করতে যা যা দরকার সব দিবে এখন আমাদের চাল আর ১ হাজার টাকা দিয়ে বের করে দিচ্ছে কেন? তাহলে সরকার কি মিথ্যা কথা বলে? তারা আরো বলেন, সরকার ভাত না দিলে না দেক, আমরা আশ্রয় কেন্দ্র ছাড়ব না, মরলে এখানেই মরব কারন আমাদের যাওয়ার জায়গা নাই।

প্রশাসন থেকে আশ্রয় কেন্দ্র বন্ধ করে দেয়ায় যারা আশ্রয় কেন্দ্র ছাড়েননি তাদের জন্য গত ৫দিন ধরে কোনো খাবার দিচ্ছে না প্রশাসন, এতে করে অনেক মানুষ পাউরুটি বন খেয়ে আবার কোন বেলা ভাত খেয়ে দিনযাপন করছে সর্বশেষ অবস্থান করা এসব ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ। তারা সরকারের কাছে দৃষ্টি আকর্ষণ করে আকুতি জানিয়ে বলেছেন, যদি ৫০ হাজার টাকা এবং কিছু ঢেউটিন দেয়া হলে বিধ্বস্ত ভিটায় গিয়ে মাথাগোঁজার ঠাঁইটুকু করতে পারবেন। এটুকু হলেই আশ্রয় কেন্দ্র ছাড়তে পারতেন তারা।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবু শাহেদ চৌধুরী বলেন, আশ্রয় কেন্দ্র বন্ধ করে দেয়ার বিষয়টি তাদেরকে অনেক আগ থেকেই বলে দেয়া হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্র চালানোর জন্য সরকারি কোনো বরাদ্দ নেই। তাই পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ৭ সেপ্টেম্বর ৬টি আশ্রয় কেন্দ্র বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

Share This:

খবরটি 63 বার পঠিত হয়েছে


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*
*

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

ChtToday DOT COMschliessen
oeffnen