শিরোনামঃ

এই ঈদে বান্দরবান ঘুরে আসুন

কৌশিক দাশ, বান্দরবান থেকে। যান্ত্রিক জীবনের নানা কর্মব্যাস্তর ফাঁকে ঈদের ছুটিতে অবকাশ যাপনে কিছুটা প্রশান্তি পেতে ঘুরে আসুন পাহাড়ি জেলা বান্দরবানে। বান্দরবানের পাহাড়ে, কত রং আহা রে- ছন্দটির সঙ্গে বান্দরবানের অপার সৌন্দর্য্যরে কতটা মিল তা শুধু গিয়েই উপলব্ধি করা সম্ভব।nilgiry--

পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলার মধ্যে একটি বান্দরবান। যেখানে রয়েছে ১১টি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর বসবাস। প্রকৃতি যেন সাজিয়েছে আপন মনের মাধুরি মিশিয়ে। তাই সবুজে মোড়ানো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য,ে অবারিত সবুজের সমারোহ এবং মেঘ ছুঁয়ে দেখার ইচ্ছে হলেই ঘুরে আসুন পাহাড়ি কন্যা বান্দরবানে। যেখানে প্রকৃতি নিজ ঐশ্বর্য্যকে ঢেলে দিতে কৃপণতা করেনি। পাহাড়ি এ জেলায় রয়েছে অসংখ্য হ্রদ, ঝরনা, নদী। এখানকার জীববৈচিত্র্য এবং তাদের ঐতিহ্যপূর্ণ বর্ণাঢ্য সংস্কৃতি যেকোন সংস্কৃতি মনা ও ভ্রমণপিয়াসু মানুষকে কাছে টানে সহজেই। তাই এই ছুটি বা আপনার সময় সুযোগে ঘুরে আসুন পর্যটন নগরী বান্দরবানে । বান্দরবানে আপনি যেখানে গিয়ে ঘুরতে পারবেন ।
মেঘলা
বান্দরবান শহর থেকে ৪ কি. মি. দূরে অবস্থিত সুন্দর মনোরম পরিবেশে এ পর্যটন অবস্থিত। সুন্দর কিছু উঁচু নিচু পাহাড় বেষ্টিত একটি লেকটিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে এ স্পটটি। চারিদিকে ঘন সবুজ বৃক্ষরাজি আর প্রাকৃতিক লেকের স্বচ্ছ পানি যে কাউকেই প্রকৃতির কাছাকাছি টেনে নেয়।
লেকে ভ্রমণ করতে রয়েছে ভাড়ায় চালিত প্যাডেল বোট আর নৌকা। এছাড়া মিনি চিড়িয়াখানা, শিশু পার্ক, সাফারী পার্ক, ঝুলন্ত ব্রিজ, পিকনিক স্পট এবং আকাশে ঝুলে আছে কেবল কার।
অবকাশ যাপনের জন্য রয়েছে জেলা প্রশাসনের একটি সুন্দর রেস্ট হাউজ। রাত্রিযাপনের জন্য ৪টি কক্ষ রয়েছে।
নীলাচল
বান্দরবান শহরের একটি সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন স্পট হল নীলাচল। শহর থেকে ৫ কি.মি. দুরে সমুদ্র পৃষ্ট থেকে ২ হাজার ফুট উচতায় অবস্থিত এটি। যেখান থেকে উপভোগ করা যায় মেঘমুক্ত আকাশে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের অপূর্ব দৃশ্য। যে দিকে দুচোখ যায় অবারিত সবুজ ও নীল আকাশের হাতছানি। যেন আকাশের নীল আচল ছড়িয়ে দিয়েছে সবুজের জমিনে। মুহুর্তেই মন প্রাণ ভরে উঠে মুগ্ধতায়।
বিশেষ করে নীলাচলে সূর্যাস্তের দৃশ্য ভ্রমণ পিয়াসুদের মনে আনে স্বর্গীয় অনুভূতি। কথিত আছে নীলাচলের নির্মল বাতাস যেকোন পুরানো রোগ নিরাময়ের জন্য টনিক হিসেবে কাজ করে। এছাড়াও নীলাচলে রয়েছে নীল রঙের ৫টি কটেজ, যেগুলো রাত্রি যাপনের জন্য ভাড়ায় পাওয়া যায়।

শুভ্র নীলা
নীলাচল এর খানিকটা নিচে চমৎকার এ পর্যটন স্পটের অবস্থান। বান্দরবান শহর থেকে ৫ কি. মি. দূরে এ পর্যটন স্পটটিতে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন কটেজ ও রেস্টুরেন্ট। সমুদ্র পৃষ্ট হতে ২০০০ হাজার ফুট উচুতে এ স্পটটি থেকে বান্দরবানের সুন্দর দৃশ্য দেখার জন্য প্রতিদিন ভীড় জমায় হাজারও পর্যটক। চান্দের গাড়ি, প্রাইভেট কার, বেবি টেক্সি ভাড়া করে এখানে যাওয়া যায়।
শৈল প্রপাত
বান্দরবান শহর হতে ৮ কি.মি. দূরে চিম্বুক বা নীলগিরি যাওয়ার পথে শৈল প্রপাত। প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট হিমশীতল এ ঝর্নাটিতে অবিরাম বয়ে চলেছে স্বচ্ছ পানি। যার শীতল ছায়ায় নিমেশেই দূর হবে ভ্রমণের ক্লান্তি। যেখানে লক্ষ্য করা যায় স্থানীয় বম আদিবাসীদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও জীবনধারা। পাওয়া যাবে হাতের তৈরি বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী দ্রব্যসামগ্রী।
বুদ্ধ ধাতু জাদি (স্বর্র্ণ মন্দির)
বুদ্ধ ধাতু জাদি সু-উচ পাহাড়ের চূড়ায় বান্দরবান-রাঙামাটি সড়কের বালাঘাটা নামক এলাকায় অবস্থিত। বান্দরবান শহর হতে ৪ কি.মি. দূরে এ উপাসনালয়টি আধুনিক স্থাপত্য শিলের এক অনবদ্য নিদর্শন। বর্তমানে বুদ্ধ ধাতু জাদি দেশের একটি অন্যতম পর্যটন স্পট হিসাবে পরিগনিত হচ্ছে।এটির নির্মাণশৈলী মায়ানমার, চীন ও থাইল্যান্ডের বৌদ্ধ টেম্পল গুলোর স্থাপত্য নকশায় তৈরি।

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট ও যাদুঘর
পার্বত্য এলাকার আবহমান কালের আদিবাসীদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট। বান্দরবান শহরের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত এটি। এখানে রয়েছে একটি নৃ-তাত্ত্বিক জাতি গোষ্ঠির জাদুঘর। যেখানে সংরক্ষণ করা হয় বিলুপ্ত প্রায় পাহাড়ি জাতি গোষ্ঠির জীবন ধারার বিভিন্ন ঐতিহ্য।

নীলগিরি
সমুদ্র পৃষ্ট হতে ২২০০ ফুট উচতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত এ নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্রটি পাহাড় এবং আকাশের মিতালীর এক অপূর্ব নিদর্শন। যেখান থেকে খালি চোখে সমুদ্র সৈকতের দৃশ্য উপভোগ করা যায়। বান্দরবান শহর থেকে ৫৪ কি.মি. দূরে পর্যটন কেন্দ্র নীলগিরির অবস্থান।
এখানে পাহাড় আর মেঘের মিতালী চলে। তবে যারা মেঘ ছুঁয়ে দেখতে চান তারা এই স্পট ভ্রমণে যেতে ভুল করবেন না। কারণ মেঘ নিজেই আপনাকে ছুঁয়ে যাবে। যারা রাত্রিযাপন করতে চান তারা অবশ্যই আগে থেকে কটেজ বুকিং এবং খাবার অর্ডার দিয়ে রাখবেন। নীলগিরির মেঘের সমুদ্রে রয়েছে কিছু দৃষ্টি নন্দন কটেজ। যেগুলোর নামকরণ করা হয়েছে মেঘদূত, নীলাঞ্জনা ইত্যাদি।
চিম্বুক
বাংলার দার্জিলিং নামে খ্যাত চিম্বুক পাহাড় বান্দরবনের সবচেয়ে পুরোনা পর্যটন স্পট। সমুদ্র পৃষ্ট থেকে ৩৫০০ ফুট উচতায় অবস্থিত এ পাহাড়ের পাশেই রয়েছে আদিবাসী ¤্রাে সম্প্রদায়ের বসবাস। বান্দরবান শহর হতে ২৬ কি.মি. দূরে মিলনছড়ি এবং শৈল প্রপাতের পরেই চিম্বুক। যেখানে পাহাড়ের চুড়ায় রেস্টুরেন্ট এবং একটি ওয়াচ টাওয়ার আছে। বান্দরবান জেলার সবকটি উপজেলার সঙ্গে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা রক্ষার জন্য এখানে বাংলাদেশ তার ও টেলিফোন বোর্ড একটি বেইজ স্টেশন ও টাওয়ার স্থাপন করেছে। পর্যটকদের দৃষ্টিতে যা খুবই আকর্ষণীয়। এছাড়া পাহাড়ের চুড়া থেকে চারদিকের সবুজ প্রকৃতির সৌন্দর্য্য প্রকৃতি প্রেমীদের কাছে টেনে আনে সহজেই।

বগালেক
পাহাড়ের চূড়ায় প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট একটি জলাশয় বগালেক। যার পানির উচতা শীত বর্ষায় কখনোই পরিবর্তন হয়না। এ লেক বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলায় অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ট থেকে প্রায় ১৫০০ ফুট উঁচুতে এ লেক সৃষ্টির পেছনে অনেক পুরোনো কল কাহিনী প্রচলিত রয়েছে। পাহাড়িরা এটিকে দেবতার লেক বলেও মনে করে।
পাহাড়ের উপরে শান বাঁধানো বেষ্টনিতে প্রায় ১৫ একর জায়গা জুড়ে বগালেকের অবস্থান। তবে বষার্য় বগালেক ভ্রমণ কিছুটা কষ্টসাধ্য। তাই শীতকালে সেখানে যাওয়ার সময় বেছে নেওয়া ভালো। বগালেক ভ্রমণের সময় সঙ্গে শুকনো খাবার, পানি, টর্চলাইট ও জরুরি ওষুধ রাখা প্রয়োজন। পর্যটকদের রাতযাপনের সুবিধার্থে বগালেকে জেলা পরিষদের রেস্ট হাউজ এবং স্থানীয়ভাবে কিছু গেস্ট হাউজ রয়েছে। স্থানীয় অধিবাসীরা পর্যটকদের খাবার ও আবাসন সুবিধা দিয়ে থাকে।baga lake--

বান্দরবান যাওয়ার ব্যবস্থা:
ঢাকা থেকে বান্দরবান যেতে ২/৩টি রুট ব্যবহার করতে পারেন।

ঢাকা থেকে সরাসরি বান্দরবান যাওয়ার ক্ষেত্রে আপনি বেছে নিতে পারেন ডলফিন, এস.আলম, বিআরটিসি, সেন্ট মার্টিন ব্লু, ইউনিক, শ্যামলী পরিবহনের যেকোনটি।এসব পরিবহনের ভাড়া জনপ্রতি ৮৫০-১০০০ (এসি), ৬০০-৭৫০ (নন এসি)।

ঢাকা থেকে ট্রেনে বা বাসে প্রথমে চট্টগ্রাম তারপর চট্টগ্রাম নেমে বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল। বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল থেকে পূরবী, পূর্বাণী পরিবহনে সরাসরি নন এসি বাসে চড়ে বান্দরবান পৌছতে পারেন। প্রতি ৩০ মিনিট পরপর চট্রগ্রাম বহদ্দারহাট বাসটার্মিনাল থেকে বাসগুলো বান্দরবানের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ভাড়া জনপ্রতি ১১০-১৩০ টার মধ্যে।

তাছাড়া চট্রগাম থেকে বিআরটিসি এসি বাসে করে ঘন্টা তিনের মধ্যে আপনি পৌছে যাবেন স্বপ্নের বান্দরবানে । বান্দরবান ভ্রমণে আপনাকে স্বাগমত জানাতে প্রস্তুত হোটেল ,মোটেল ও প্রশাসন ।

তাই এ ঈদে আর দেরি কেন ঘুরে আসুন পার্বত্য কন্যা পর্যটন নগরী বান্দরবান।

on

খবরটি 388 বার পঠিত হয়েছে


Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

*
*

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

ChtToday DOT COMschliessen
oeffnen