শিরোনামঃ

একান্ত সাক্ষাতকারে ফিরোজা বেগম চিনু এমপি

আমাদের আন্দোলন অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে

ফিরোজা বেগম চিনু ৩ পার্বত্য জেলার সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে দেখে তার আর্দশে অনুপ্রানিত হয়ে আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়েছেন। তিনি জানান, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আমি তখন ক্লাশ ফাইভে পড়তাম, সে সময় বঙ্গবন্ধু একবার রাঙামাটি এসেছিলেন আমি ছোট থাকায় আমাকে ফুলের তোড়া দেয়া হয় বঙ্গবন্ধুকে দেয়ার জন্য। আমি বঙ্গবন্ধুকে ফুল দেয়ার পর আমি এত আনন্দিত হয়েছিলাম যা ভাষায় প্রকাশ করার মত না। যেদিন বঙ্গবন্ধু মারা যান dsc00092তখন আমার খুব খারাপ লেগেছিল। আমি এইচএসসি ভর্তি হই রাঙামাটি সরকারী কলেজে। কুমিল্লা থেকে ডিগ্রী পাশ করি। আমি যখন বিয়ের পর কুমিল্লায় যাই তখন আমার শ্বাশুরী আমাকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দেন। আমি যখন রাঙামাটি স্থায়ীভাবে চলে আসি তখন এরশাদের আমলে রাঙামাটি জেলা আওয়ামালীগের সভাপতি বদিউল আলম ওয়ার্ড সভাপতি করার মাধ্যমে আমাকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দেন। পরে বর্তমান সভাপতি দীপংকর তালুকদার জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্ব নেবার পর আমাকে জেলা আওয়ামীলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাকের দায়িত্ব দেন এর পর আমি মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে যে পথ চলা শুরু করেছি এখন বর্তমানে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য হিসেবে সে পথ চলা আর থেমে থাকেনি। সম্প্রতি তার বাসভবনে সিএইচটি টুডে ডট কম টীমের সদস্যরা পাহাড়ের নানা বিষয় নিয়ে তার সাথে কথা বলেন।

ফিরোজা বেগম চিনু এমপি সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্যদের বরাদ্দের বিষয়ে বলেন, আমাদেরকে আসলে সরকারের কাছে তেমন বলার কিছুই নেই। যতটুকু বলছিলাম আমাদেরকে যদি বরাদ্দ কিংবা বরাদ্দের পরিধিটা বাড়ানো হয় তাহলে হয়তো বা কাজ করতে আরো বেশি সুবিধা হবে। আরো ভাল কাজ করতে পারবো, জনগণের আরো বেশি কাছে যেতে পারবো। আমরা রাজনৈতিক কর্মী সুতরাং আমাদের এমনিতেই মাঠে ময়দানে যেতে হয়। অনেক সময় দেখা যায় যে, এলাকায় গেলাম সেখানে অনেক নিরীহ মানুষ এসে পাশে দাড়ায়, আমাদের হাতটা যদি ঐভাবে প্রসারিত করতে না পারি নিজের কাছে খারাপ লাগে। রাজনীতির কারনে আমাদের আগেও তাদের সাহায্যে সহযোগিতা করেছি এখনো করতে হয়। বরং এখন মানুয়ের প্রত্যাশা অনেক বেশি। একজন মহিলা সাংসদ সরকার থেকে কি পরিমান বরাদ্দ পান সেটা কিন্তু সবাই জানে না। তবু বলব সরকার বা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে সুযোগ এবং সেজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আমাদেরকে যদি আরো সুযোগ দেওয়া হয় তাহলে আমরা আরো ভাল কাজ করবো।

সম্প্রতি আওয়ামীলীগের ২০তম জাতীয় কাউন্সিলে রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি দীপংকর তালুকদারকে কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সদস্য পদ দেয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অসংখ্য ধন্যবাদ। রাঙামাটি জেলার অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ ব্যক্তি দীপংকর তালুদারকে তিন পার্বত্য জেলার দায়িত্ব দিয়েছেন এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সদস্য পদে রেখেছেন। আশা করি তিনি দলকে আরো শক্তিশালী করবেন এবং আগামীতে আমরা সবাই মিলে এই আসনটি জননেত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে পারব।mpchino

দীর্ঘদিনেও কেন মেডিকেল কলেজ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন নির্মান কাজ শুরু হয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখানে কিছু জটিলতা আছে, কোন কিছু অশ্চিয়তার মধ্যে যাবে না। আমি কিছুদিন আগে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ গিয়েছি, তাদের সাথে কথা বলেছি। তাদের সমস্যার কথা শুনেছি। কর্তৃপক্ষ আমাকে বলেছেন আমাদের এখানে জমির মুল্য পার্বত্য অঞ্চলের ১৫% যেটি ধরা হয় সেটা সমতলে ৫০%। এই ১৫% আর ৫০% কে ধরে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে নিতে যেতে হচ্ছে। আমাদের সামনে স্থায়ী কমিটির মিটিং আছে আমি বিষয়টা সেখানে জানাবো। এটা যদি দ্রুত সমাধান হয় তাহলে সব কাজ এগিয়ে যাবে। রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন নির্মান বা প্রকল্পের টাকা এসে গেছে অনেক আগে। কিন্তু জনগণের সাথে ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জমির মুল্যর ক্ষতিপুরন ১৫% এর বেশি দিতে পারবে না। ওরা বলছে ৫০% না হলে আমরা জায়গা দিতে পারবো না। এই যে একটা দ্বন্দ্ব। এই দ্বন্দ্বটার অবসান ঘটলে দ্রুত আমরা ভবনের কাজ করতে পারব।

সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষমতাসীন দলের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি বিষয়ে ফিরোজা বেগম চিনু এমপি বলেছেন, আমরা ক্ষমতায় আসার আগেও কিন্তু পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান ছিলো। এর পর ১৯৯৭সালে শান্তি চুক্তি করার পর আমরা ভেবেছি এর সমাধান পেয়ে গেছি। কিন্ত না আমরা দেখতে পেলাম পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলছে। আর এটা যে বাঙালী গোষ্ঠীর উপর পড়ছে তাও না। এটা পাহাড়ের বসবাসরত সকলের প্রতি এই অস্ত্রের ব্যবহার হচ্ছে। এই অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহারের মাধ্যমে পাহাড়ের ছোট বড় সকল ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাদা আদায় করা হয়। ঠিকাদারের সব কাজেই চাদা দিতে হয়। এই কথাগুলো বাস্তব সত্য, পরীক্ষিত সত্য। কিন্তু প্রমানের অভাবে এইগুলোর পক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে এই চাঁদার হার দিন দিন গৃহের দিকে চলে যাবে। এক পাহাড়ী মেয়ে আমাদের মিটিংয়ে বললো বিয়ে হলেও নাকি তাদের চাদা দিতে হয়। এররকম একটি পরিস্থিতিতে আমরা এগুলো সরকারের কানে দেওয়ার চেষ্টা করছি এবং আমাদের এই আন্দোলন অব্যাহত আছে থাকবে। আমাদের আন্দোলন সন্ত্রাস, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে। আমরা চাই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হোক।

গত দুই বছরে প্রত্যাশা অনুযায়ী অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,প্রশাসন প্রশাসনের মতই কাজ করছে। তারপরও আমরা চাই এই অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আমরা তো শান্তি চুক্তি করেছি সব অবৈধ অস্ত্র জমা দেওয়া হয়েছে। তাহলে এই সব অবৈধ অস্ত্র কোথা থেকে আসছে? কিভাবে আসছে? আমাদের সীমান্ত প্রহরীরা সীমান্ত দায়িত্ব রক্ষা করে। তাদের চোখে ধুলা দিয়ে এই সব অবৈধ অস্ত্র কিভাবে আসছে? সরকারের সবাই বিষয়টা জানেন। এই এলাকার শান্তির জন্য অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার বলে আমি মনে করি।

পার্বত্য ভুমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইনে নিয়ে বাঙালীদের উদ্বেগের বিষয়ে ফিরোজা বেগম চিনু এমপি বলেছেন, অনেকে মনে করছে, পার্বত্য অঞ্চল থেকে অনেক বাঙালী চলে যেতে হবে। আসলে আমি আইনটা পড়েছি, অনেক বার পড়েছি এবং আমি আমাদের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা, পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ও ভূমি মন্ত্রীর সাথে কথা বলেছি তারা বলেছেন, আপনারা অনেক ভয় পাচ্ছেন এটা আসলে তেমন কোন সমস্যা না। যেই ভূমিটা নিয়ে বিরোধ আছে সেইগুলোকে নিয়েই ভূমি কমিশন কাজ করবে । এর বাইরে কোন কাজ করবে না ভূমি কমিশন। অনেকে আমাদের বিরোধী আছে তারা বলছে, প্রথাগত অনুযায়ী তারা ভূমি দাবি করে, সেখানে দেখা যাবে অনেকের কোন কাগজপত্র নেই, এটার উপর ভিত্তি করে হয়তো অনেকের আইনের মাধ্যমে ভূমি ছাড়তে হবে। এই বিষয়ে আমি এখনো বুঝি নাই। আমি এই বিষয়টা নিয়েও কথা বলবো। আমার মনে হয় না দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য, দেশের প্রচলিত আইনকে শ্রদ্ধা করার স্বার্থে এই ধরনের কার্ম কান্ড করবে। আমি সবাইকে অনুরোধ জানাবো আপনারা শান্ত থাকুন, যারা আপনাদের জায়গা দখল করার চেষ্টা করছে তাদের বিরুদ্ধে আমি। সব সমাধান হবে অবশ্যই হবে যে যার ন্যায্য অধিকারটুকু পাবে। আমরা এতটুকু জানি, যদি একটা জায়গা নিয়ে দুই জনের দাবি থাকে তাহলে সেইখানে যার কাগজ পত্র সঠিক আছে সেই জায়গা পাবে কিন্তু যার কাগজ পত্র সঠিক থাকবে না তাকে চলে যেতে হবে না,আমরা তার বিকল্প ব্যবস্থা করবো। Rangamati Pic-21-07-16-03আমার কথা খুব স্পষ্ট এই বাংলাদেশ আমরা ১৯৭১ সালে সকলে মিলে স্বাধীন করেছি। এই পার্বত্য অঞ্চল বাংলাদেশের বৃহৎ একটি অংশ। এই দেশের জন্য আমাদের বাপ ভাইয়েরা প্রাণ দিয়েছে। সুতরাং এই স্বাধীন সার্বভৌমত্ব দেশে কেউ যদি বলে এইখান থেকে চলে যেতে হবে। এটা হবে অযৌক্তিক কথা ও অমানবিকের মত কথা। আপনারা জানেন হয়তো বা পার্বত্য ভুমি কমিশনের যে ২য় সভাটি হলো সেখানে রাজা দেবাশীষ বায় বললেন আমরা তো আইনের বাহিরে যেতে পারবো না। সুতরাং ভয় পাওয়ার কোন কারণ নাই। যদি এই কথাগুলো সত্য হয় তাহলে আমি মনে করি সুন্দর একটি সমাধান হবে। পার্বত্য অঞ্চলে শান্তির সুবাতাস বইবে এবং তিন পার্বত্য জেলায় পর্যটন নগরী হিসাবে বিশ্বের কাছে খ্যাতি লাভ করবে। আমি মিডিয়া মাধ্যমে বলতে চাই যারা অবৈধ অস্ত্রের মাধ্যমে চাদাবাজি করছে, আসুন আপনারা চাদাবজি পরিহার করে, অবৈধ অস্ত্র পরিহার করে আলোর পথে আসুন।

Print Friendly, PDF & Email

Share This:

খবরটি 458 বার পঠিত হয়েছে


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*
*

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

ChtToday DOT COMschliessen
oeffnen